লখনউ:  গোহত্যার ঘটনায় বুলন্দশহর যখন জ্বলছে তখন লাইট এন্ড শো দেখতে ব্যস্ত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷ এই নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হল তাঁকে৷ বাদ যায়নি সোশ্যাল মিডিয়াও৷ যেদিন গোহত্যার কারণে বুলেন্দশহর উত্তপ্ত ছিল সেদিন নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র গোরক্ষপুরে গোরক্ষধাম মন্দিরে লাইট এন্ড সাউন্ড শো দেখছিলেন যোগী৷ তাঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংও৷

এই রকম অবস্থায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা৷ সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে অনেকে তোপ দাগেন৷ কেউ কেউ লেখেন বুলন্দশহর জ্বলছে আর আপনি লাইট এন্ড শোয়ের মজা নিচ্ছেন৷ রাজ্য বিজেপির যুক্তি অনুষ্ঠানটি পূর্ব নির্ধারিত ছিল৷ তাছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন রমন সিং৷ তাই সৌজন্যের খাতিরে সেখানে যান যোগী৷ কিন্তু তারপরেও অনেকে প্রশ্ন তোলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কি যোগী অনুষ্ঠান বাতিল করতে পারতেন না?

এদিকে পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিংয়ের মৃত্যুতে যখন শোকস্তব্ধ উত্তরপ্রদেশ তখনই আলটপকা মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়ালেন বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং৷ তাঁর দাবি, পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে মারা গিয়েছেন সুবোধ কুমার সিং৷ উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিংয়ের এই মন্তব্য উস্কে দিয়েছে বিতর্ক৷ এখনও পুলিশের তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি তার আগেই বিজেপি বিধায়কের ঘোষণা, পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমারের মৃত্যুতে বজরং দলের কেউ জড়িত নয়৷

তবে পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিংয়ের মৃত্যুকে দুর্ভাগ্যজনক জানিয়ে রোহানিয়ার বিধায়ক বলেন, ‘‘পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে খুন করেনি৷’’ গোটা ঘটনায় হিন্দু সংগঠন বজরং দলের স্বপক্ষে সাফাই দিয়ে সুরেন্দ্র জানান, ওরা (বজরং দল) পাথর ছুঁড়লেও গুলি ছোঁড়েনি৷ বন্দুক নিয়ে তারা সেখানে যাননি৷ পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে৷ তখন অসাবধানবশত একটি গুলি গিয়ে লাগে সুবোধ কুমারের শরীরে৷ তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর৷
বিজেপি বিধায়ক এমনটা জানালেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সুবোধ কুমারের মৃত্যুতে বজরং দলের নেতা যোগেশ রাজের নামই উঠে এসেছে৷ গতকাল বুলন্দশহর যে হিংসার সাক্ষী থেকেছে সেই ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হল এই যোগেশ৷ ঘটনার পরই বেপাত্তা সে৷