সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: বুলাদি’কে মনে পড়ে? আজ থেকে বছর ১৪ আগে শহরের প্রত্যেক কোনায় তার পোস্টার। তিনি কোনও হারিয়ে যাওয়া বিদ্যা বাগচী ছিলেন না। তিনি হারিয়ে দিতে পেরেছিলেন একসময় মহামারীর আকার ধারণ করতে শুরু করা এইচ আই ভি ভাইরাসকে। পয়লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবসে তার সাফল্যের প্রমাণ এটাই। আরও বড় প্রমাণ দেয় শহরের যৌনপল্লীগুলি।

সোনাগাছি, খিদিরপুর, কালীঘাটের মতো যৌনপল্লীতে এখন কর্মীরা কাস্টমারদের কন্ডোম ছাড়া মিলনে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। বুলা দি ক্যাম্পনের প্রভাব যে তাদের মনেও ফেলেছিল তা জানাচ্ছেন যৌনকর্মীরা নিজেই। কেউই নাম প্রকাশ করতে চান না। তবে কন্ডোমের ব্যবহার নিয়ে সবাই মন খুলে কথা বললেন। খিদিরপুরের ওয়াটগঞ্জ অঞ্চলে রয়েছে যৌনপল্লী। ৩০০র বেশি কর্মী এখানে রয়েছেন। দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতির উদ্যোগে আজ রবিবার পালিত হয় এইডস দিবস। কর্মীরা নিয়ম মেনে ক্যাম্পে এসে এদিন রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে যান। পল্লীর অনেক পুরুষও রক্ত পরীক্ষা করান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যৌনকর্মী জানালেন , ‘কন্ডোম ছাড়া কোনও কাস্টমার কিছু করতে চাইলেই আমরা রিপোর্ট করে দি। রোগ নিয়ে কোনও ছেলেখেলা নয়। আগে কন্ডোম তারপর সার্ভিস’. ওপর এক যৌনকর্মী বলেন, ‘দুর্বারের কাজ অবশ্যই আমাদের সচেতন করেছে। কিন্তু একসময় রাস্তায় বেরোলেই বুলাদি’র বিজ্ঞাপণ দেখতে পেতাম। সেটাও অনেকটা সাহায্য করেছে এইডস সম্বন্ধে সচেতনতা বাড়াতে। কন্ডোম ব্যবহারের উপকারিতাও অনেক সাহায্য করেছে সমাজের সমস্যা ও যৌনতা সম্পর্কে।’

যৌনকর্মীরা একযোগে সবাই জানাচ্ছেন প্রত্যেক তিন মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা করান সবাই। আর কন্ডোম ছাড়া যৌন মিলন? নৈব নৈব চ।

মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী লেন্টিভাইরাস গোত্রের অন্তর্গত এক ধরনের ভাইরাস যার সংক্রমণে মানবদেহে এইডস হয়। এইচ.আই.ভি ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা সংক্রামক রোগ ও কয়েক রকম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ে। এইচআইভি ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর অনাক্রম্যতা কমতে কমতে এইডস ঘটাবার মত অবস্থায় পৌছতে অনেক বছর লাগে। তবে শরীরে এই ভাইরাস একবার সংক্রমিত হলে তা কমানো সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ দূর করে এখনও সম্ভব নয় তাই শেষপর্ষন্ত সেই রোগীর এইডস হওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।

ওয়ার্ল্ড হেলথ ওর্গানাইজেসন মানবদেহে এইচ.আই.ভি ভাইরাসের সঙ্ক্রমনকে প্যান্ডেমিক হিসাবে চিহ্নিত করে। ১৯৮১ সালে ভাইরাসটি আবিষ্কারের পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এইডস রোগ কারনে ২কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যান।