লখনউ: উত্তর প্রদেশের সাহারনপুরে এক মন্দিরে পুজো করার অপরাধে বুক্কল নবাবকে ইসলাম থেকে বরখাস্ত করল উলেমারা৷ সমাজবাদী পার্টি থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর হনুমান মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন তিনি৷ এতেই রেগে যায় দেওবন্দ উলেমারা৷ শুধু রেগেই যায়নি, রাগের বহিঃপ্রকাশও করে তারা৷ ইসলাম থেকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয় নবাবকে৷

সমাজবাদী পার্টি ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে এসেও সমস্যা তাঁর পিছু ছাড়ছেনা৷ বিজেপির এমএলসি প্রার্থী বুক্কল নবাবের সমস্যা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ নবাবের হিন্দুদের মত পোশাক পরা ও পুজো করাতে যে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে তা বোধহয় ভাবতে পারেননি তিনি নিজেও৷

দেওবন্দ উলেমাদের বক্তব্য যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পুজো করে তারা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়৷ আবার ইসলামে ফিরতে হলে বুক্কল নবাবকে আল্লাহর কাছে ‘তৌবা’ করতে হবে৷ দেওবন্দ উলেমার মুফতি আহমদ গৌড় জানিয়েছেন “দেবী দেবতার পুজো করা ইসলামে মান্য করা হয়না৷ তা বৈধ নয়৷ যদি কোনও মুসলমান আল্লাহর বদলে অন্য কোনও দেবী দেবতার পুজো করে তাহলে সে ইসলাম থেকে বরখাস্ত হয়ে যায়৷” তিনি আরও বলেন, “দেবী দেবতাদের পুজো করা মুসলমান ইসলাম নন৷ তিনি বুক্কল নবাব হোন বা যে কোনও মুসলমান হোন৷ ঈশ্বরের সঙ্গে কোনও অন্য দেব দেবীর পুজো করা বৈধ নয়৷”

মৌলানা সালিম অশরফ কাসমি বলেছেন, “বুক্কল নবাব যদি মন্দিরে যাওয়ার বদলে অমুসলমান মানুষের জন্য কিছু করতেন বা মানবিকতা দেখাতেন অমুসলমান কাউকে, মানুষের জন্য ভাল কোনও কাজ করতেন তাহলে খুদাও খুশি হতেন৷ কিন্তু উনি ইমানকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন৷ হিন্দু ধর্মের নিয়ম নীতি অনুযায়ী ওখানে পুজো করা নিশ্চিতরূপেই বুক্কল নবাবের মত মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করায়৷ বুক্কল নবাবকে সত্যিকারের ‘তৌবা’ করেই নিজেকে বাঁচাতে হবে৷”

উল্লেখ্য, সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন এমএলসি বুক্কল নবাব বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই হজরত জঙ্গে অবস্থিত দক্ষিণমুখী হনুমান মন্দির দর্শন করতে যান৷ সেখানে তিনি বীর হনুমানের পুজোও দেন৷ মন্দিরে উপঢৌকন হিসেবে ঘণ্টাও দেন৷ মন্দিরে পুজো করার পরে বুক্কল নবাব বলেছিলেন এই মন্দির তাঁর পূর্বপুরুষেরা তৈরি করেন৷ এর সত্যতা লেখা রয়েছে গুগল এবং গীতা প্রেসের বইয়েও৷