কলকাতাঃ  ১ লা ফেব্রুয়ারি আর্থিক বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। চলছে শেষ মুহূর্তের জোর প্রস্তুতি। আর তার আগে অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের তরফে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হল। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই দাবি পেশ করা হয়েছে সংগঠনের তরফে।

কাউন্সিলের দাবি, গয়না কেনার জন্যে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার ইএমআই সিস্টেম চালু করুক। অনেক ক্ষেত্রেই মোটা অংকের সোনা ক্রেতাকে নগদে কিনতে হবে। ফলে সমস্যা তৈরি হয়। আর তাই বাজেটে এই বিষয় যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকার নেয়, সেই কারণে কাউন্সিলের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কাউন্সিলের অন্যতম দাবি, সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমানো হোক এবং গোল্ড মানিটাইজেশন স্কিমটি ঢেলে সাজা হোক। পাশাপাশি স্বর্ণকারদের অভিযোগ, হলমার্কিং নিয়ে যে নিয়ম আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার, সেখানে পরস্পর বিরোধিতা আছে। তাঁদের দাবি, তার সুরাহা করা হোক এবারের বাজেটে।

‘বর্তমানে’ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ইউপিএ সরকার সোনার উপর আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে বাড়িয়েছে। আর তা এক ধাক্কায় বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইউপিএ জমানার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরেননি নরেন্দ্র মোদীও। তাঁর দ্বিতীয়বারের শাসনকালে তা কমেনি, বরং বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আরও ২.৫ শতাংশ। বাজেটে আমদানি শুল্ক রাখা হয় ১২.৫ শতাংশ। যেভাবে দেশে সোনার চোরচালান বাড়ছে, তাতে এবার অন্তত সেই হার কমুক, চায় কাউন্সিল।

অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের তরফে কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে গোল্ড মানিটাইজেশন স্কিম চালু করার আবেদন জানিয়েছে। মোদী সরকার এই সংক্রান্ত স্কিম চালু করেছিল। আর তা এই বাজেটে চালু করার জন্যে আবেদব জানিয়েছে কাউন্সিল। ভাইস চেয়ারম্যান শঙ্কর সেন ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মোদী সরকারের গোল্ড মাইনিটাইজেশন স্কিমটিতে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১১.১ টন সোনা জমা হয়েছে। মন্দিরে সঞ্চিত সোনা এবং সাধারণ মানুষের লকার বা আলমারিতে জমানো সোনার পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার টন। সরকার যদি জুয়েলার বা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এই স্কিমে যুক্ত করে, তাহলে তারা অনেক উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন।

পাশাপাশি তাঁর দাবি, মাসিক কিস্তিতে সোনার কেনার সুযোগ দিক কেন্দ্র। কারণ যদি কেউ ঋণ নিয়ে গয়না কেনেন, তখন পার্সেনাল লোন বাবদ চড়া সুদ দিতে হয়। যদি কিস্তিতে স্বর্ণকারকে টাকা মেটানোর সুযোগ পান গ্রাহক, সেক্ষেত্রে বিক্রি বাড়বে, আশা শঙ্করবাবুর। পাশাপাশি তিনি বলেন, বহু মানুষ আছেন, যাঁরা সোনা কেনেন বিপদে কাজে লাগানোর জন্য। চিকিৎসা বা অন্যান্য কোনও আকস্মিক কারণে টাকা দরকার হলে তাঁরা সেগুলি কাজে লাগান। কিন্তু আয়কর আইনের ৪০এ ধারা বলছে, কোনও স্বর্ণকার দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি নগদে কোনও ব্যক্তিকে দিতে পারবেন না। এক্ষেত্রে যদি দিন পিছু এক লক্ষ টাকার অনুমতি দেয় কেন্দ্র, তাহলে তা বহু মানুষের উপকারে লাগবে, দাবি করেছেন শঙ্করবাবু।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ