নয়াদিল্লি:  তলানিতে দেশের অর্থনীতি। যা আভাস তাতে আশঙ্কা আরও তলানিতে পৌঁছে যাবে দেশের আর্থিক অবস্থা। এই পরিস্থিতি বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এবারের বাজেট জনমুখী হবে কিনা সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশের মানুষ। গোটা দেশের মানুষের হাজারও প্রত্যাশার মধ্যে বাজেট পেশ করবেন নির্মলা। তবে সূত্রের খবর, মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবী মানুষের জন্যে এবারের আর্থিক বাজেটে একগুচ্ছ সুবিধার কথা ঘোষণা করতে পারে সরকার। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আয়কর ছাড়ের বিষয়টি।

মনে করা হচ্ছে, এবারের আর্থিক বাজেটে আয়করের ক্ষেত্রে বড়সড় ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যা হিসাব করা হচ্ছে তাতে ৭ লক্ষ পর্যন্ত আয়ে ৫% কর ছাড় মিলতে পারে ৷ ৭-১০ লক্ষ আয়ে ১০% কর ৷ বর্তমানে ৫ লক্ষ পর্যন্ত আয় করমুক্ত৷ এখন ৫-১০ লক্ষ আয়ে ২০% কর ৷ আর ১০ লক্ষের বেশি আয়ে ৩০% কর। ফলে এই ক্ষেত্রে আয়কর ছাড়ে বড়সড় বাজেট প্রস্তাব দিতে পারেন নির্মলা সীতারমণ।

অন্যদিকে অর্থনীতির কারবারিরা জানাচ্ছেন, এবারের বাজেট মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে খুব একটা খুশি করতে পারবে না। কারন নিত্য প্রয়োজনীয় একাধিক জিনিসের দাম বাড়তে পারে এই বাজেটে। বিশেষত সাবান, শ্যাম্পু একাধিক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞমহল। ২০২১ সালে এই আর্থিক বৃদ্ধির পরিমাণ ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে মনে করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ও আগামী অর্থবর্ষে তা ৮ থেকে ৯ শতাংশ দেখা যাবে বলে আভাস৷

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সরকার একাধিক জিনিসে শুল্ক বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্তত ৩০০টি জিনিসে শুল্ক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খেলনা, আসবাব, জুতো, কাগজ, রবার ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এইভাবে শুল্ক বাড়াও হলে ক্ষুদ্র শিল্প বৃদ্ধি পাবে, চাকরির সুযোগ বাড়বে ও রেভিনিউ উঠে আসবে।

জুতোর ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রক ৩৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব এনেছে, বর্তমানে রয়েছে ২৫ শতাংশ শুল্ক। রবারের টায়ারের ক্ষেত্রে শুল্ক ১০-১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হতে পারে ৪০ শতাংশ। কাঠের আসবাবপত্রে ২০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করতে হবে। পেপার বোর্ড বা হাতে তৈরি কাগজের ক্ষেত্রে শুল্ক বেড়ে দ্বিগুণ হবে, ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাঠের, প্লাস্টিকের বা ধাতব খেলনার ক্ষেত্রে শুল্ক ২০ থেকে বেড়ে একধাক্কায় ১০০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এভাবে শুল্ক বাড়লে দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকছে স্বাভাবিকভাবেই।