নয়াদিল্লি:  সামনেই বাজেট। দেশের আর্থিক অবস্থা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই অবস্থায় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। আর এই বাজেটের দিকেই নজর থাকবে গোটা দেশের মানুষের। তবে অর্থনীতির কারবারিরা জানাচ্ছেন, এবারের বাজেট মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে খুব একটা খুশি করতে পারবে না।

কারন নিত্য প্রয়োজনীয় একাধিক জিনিসের দাম বাড়তে পারে এই বাজেটে। বিশেষত সাবান, শ্যাম্পু একাধিক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞমহল। ২০২১ সালে এই আর্থিক বৃদ্ধির পরিমাণ ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে মনে করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ও আগামী অর্থবর্ষে তা ৮ থেকে ৯ শতাংশ দেখা যাবে বলে আভাস৷

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সরকার একাধিক জিনিসে শুল্ক বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্তত ৩০০টি জিনিসে শুল্ক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খেলনা, আসবাব, জুতো, কাগজ, রবার ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এইভাবে শুল্ক বাড়াও হলে ক্ষুদ্র শিল্প বৃদ্ধি পাবে, চাকরির সুযোগ বাড়বে ও রেভিনিউ উঠে আসবে।

জুতোর ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রক ৩৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব এনেছে, বর্তমানে রয়েছে ২৫ শতাংশ শুল্ক। রবারের টায়ারের ক্ষেত্রে শুল্ক ১০-১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হতে পারে ৪০ শতাংশ। কাঠের আসবাবপত্রে ২০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করতে হবে। পেপার বোর্ড বা হাতে তৈরি কাগজের ক্ষেত্রে শুল্ক বেড়ে দ্বিগুণ হবে, ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাঠের, প্লাস্টিকের বা ধাতব খেলনার ক্ষেত্রে শুল্ক ২০ থেকে বেড়ে একধাক্কায় ১০০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এভাবে শুল্ক বাড়লে দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকছে স্বাভাবিকভাবেই।

অন্যদিকে, এই বাজেটে বিমান বন্দরের ডিউটি ফ্রি দোকান থেকে কোনও ব্যক্তি করমুক্ত মদ কেনার ক্ষেত্রে এবার আরও নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে৷ বাণিজ্য মন্ত্রক সুপারিশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের কাছে। তবে স্বস্তি দিতে পারে রবি শস্য ও খারিফ শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্র। কারণ এই বছর ভালো বৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই ক্ষেত্রে বাজেটে ভালো কিছু ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।