সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: অটোর দৌরাত্মের জেরে বন্ধ হওয়ার অবস্থা নতুন সরকারি বাসের। এমনটাই খবর মিলছে বজবজ থেকে তারাতলা S-61 রুটের যাত্রীদের থেকে। অভিযোগের তীর পুরসভার দিকে। অভিযোগ, পুরসভা নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে গা-ছাড়া ভাব দেখাচ্ছে। জোর দিচ্ছে অটোর উপর। ফলে মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর বজবজের আছিপুর থেকে যারা তারাতলা যাতায়াত করেন তারা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রত্যেকদিন প্রচুর সময় এবং অর্থ খরচ করে করতে হচ্ছে যাতায়াত।

মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ের পর বেহাল হয়ে পড়েছিল, কলকাতার কিছু অংশ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন বেহালা, ঠাকুরপুকুর থেকে শুরু করে যারা জোকা, বজবজের মানুষ। দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে রাজ্য সরকার এগিয়ে আসে। চালু করা হয়েছিল প্রচুর নতুন ছোট ছোট বাস রুট। সেই তালিকাতেই পরে S-61। কিন্তু স্বস্তির কারণই এখন বজবজের অনেক ট্রেন বাতিল করা হয়।

তাই গত মাস ছয়েকে ওই ছোট রুটের S-61 বাসটিই যোগাযোগের অন্যতম বিকল্প হয়ে উঠেছিল। ওই বাসের সঙ্গেই চালু হয়েছিল, M14 বেহালা থেকে নিউটাউন M15, M16 টালিগঞ্জ থেকে জনকল্যাণ, M16A টালিগঞ্জ থেকে ঠাকুরপুকুর M17 মাঝেরহাট থেকে আমতলা M18 টালিগঞ্জ থেকে বেহালা (ভায়া রামমোহন রায় রোড) এর মত রুটগুলি। সমস্ত রুটেই ১৫ মিনিট অন্তর বাস চলে। একমাত্র কোপ পড়েছে S-61’এর উপর।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘প্রথমে ৪টি বাস দিয়ে S61 চালু করা হয়। এখন বাসের সংখ্যা কমে গিয়েছে। সময়ের কোনও ঠিক নেই,অনিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ মিনিট এখন ২ ঘন্টার ব্যবধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারাতলা WBTC ডিপো কতৃপক্ষের দাবি, “বাসটি আসে ৩টি পৌরসভার মধ্যে দিয়ে অর্থাৎ মহেশতলা, বজবজ, পুজালী দিয়ে, কিন্তু বাসটি মূলত ছাড়ে পুজালি থেকেই। যারা পুরসভার ক্ষমতায় রয়েছেন তারা বোধহয় তেমনতৎপর নয় এই রুটে বাস চালানোর জন্য। তাই তেমন কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের বললে আমরা তেমন ভাবে স্টেপ নেব।”

WBTC-র আরও দাবি, ‘অন্য রুটে ভালো সার্ভিস দেওয়ার জন্য অন্য এলাকার নেতৃত্ব চাপ দেন। কিন্তু বজবজ এলাকার কোন নেতৃত্ব সেই আর্জি রাখেন না। ফলে ক্রমেই বাস কম ও স্টাফ কম থাকায় বাকি রুট বজায় রেখে অবশিষ্ট বাস থাকলে তবে S61 দেওয়া হয়।’ এদিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ‘পুরসভা চায় অটোই হোক শেষ কথা। বাস সার্ভিসে মাথাব্যথা নেই, কারণ সরকারি বাস থেকে তাদের উপার্জন কম।’

অন্য কোথাও সরকারি বাস ব্রেকডাউন হলে তা S-61 থেকেই নেওয়া হচ্ছে। দিনের পর দিন এমন চললে এলাকার মানুষের আশঙ্কা, বন্ধ হয়ে যেতে পারে নতুন সরকারি এই রুটের বাসটি। হাওড়া বাস টার্মিনাস ( CTC) সূত্রে খবর আবারও সম্পূর্ণ অন্য। জানা গিয়েছে, খারাপ রাস্তা তাই দিনে একটি বাস দেওয়া হয়। তবে সেখানকার একটি সূত্র মারফৎ মিলছে সেই অটোর প্রভাবের খবর। হাওড়া বাস ডিপো সূত্রে খবর, C11/1 ‘হাওড়া – মুন্সিরহাট’ ও C26 ‘হাওড়া – বারুইপুর’ (কামালগাজি) রুটে বাস বেশি করে চালানোর জন্য সেই এলাকার নেতৃত্ব জোর দেন। কিন্তু বজবজ থেকে দাবি তেমন জোরালো নয় ফলে, যা হওয়ার তাই হয়েছে, বাস কমে গিয়েছে।

বজবজের মানুষের অভিযোগ , ‘কলকাতা মেট্রোপলিটনের অন্তর্ভুক্ত হলেও নিয়মিত বাস রুট মাত্র একটি। সেটি 77A। ছোট রুটের S-61 আসার পরেও সেটিকে অবহেলা করে নজর দেওয়া হচ্ছে অটোর উপর।’। এই প্রসঙ্গে পুজালি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রিতা পাল বলেন , “সমস্যা জানি। আসলে মানুষ সুখী হয়ে গিয়েছে। কেউ আর দাঁড়াতে চায় না। S-61এ ভিড় হয় ভালোই কিন্তু বাসটার ফ্রিকোয়েন্সি কম। অনেকেই অটোয় করে চলে যায়। আমি চেষ্টা করছি ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের কাউকে বলে কিছু করা যায় কি না।”