স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২০১১-য় রাজ্য জুড়ে ‘পরিবর্তন চাই’-এর ব্যানারে অন্যতম উজ্জ্বল মুখ ছিলেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কড়া আক্রমণ করেছেন তিনি৷ সেই একদা মমতা ঘনিষ্ট শিল্পী রবিবার বুদ্ধবাবুকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন৷ শুধু তাই নয়, হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সুখ্যাতি করলেন তিনি৷

এদিন হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শুভাপ্রসন্ন বলেন, ‘আগের থেকে একটু ভাল আছেন। এই চিকিৎসা হত না। তিনি কারও সেবা নিতে চান না বলেই বাড়ি যেতে চাইছেন। আমরা চাই ওঁর মতো সৎ মানুষ থাকুক।’

সিঙ্গুর আন্দোলন ও তার পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সমর্থনে গলা ফাটিয়েছেন তিনি। সেইসময় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঢুকে পড়েন তিনি। যার ফলে রেলের স্থায়ী কমিটির পদে ঠাঁই হয় তাঁর। তবে, সারদা কেলেঙ্কারির পর থেকে নিজেকে আড়ালে রাখছিলেন এই চিত্রশিল্পী। তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও মঞ্চে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। গত বছর বিজয়া দশমীর পর ‘হঠাত্‍’ই তাঁর বাড়িতে একটি ‘ঘরোয়া আড্ডা’য় যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্নর বাড়িতে বুদ্ধিজীবীদের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।এহেন শুভপ্রসন্ন অসুস্থ বুদ্ধবাবুকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন।

এদিন এই চিত্রশিল্পীর মুখে বুদ্ধবাবুর সম্পর্কে এমন কথা শুনে সিপিএমের এক নেতা বললেন, দেরিতে হলেও শুভাপ্রসন্নর মনে হয়েছে সেসময় তিনি ভুল করেছেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানো তাঁর উচিত হয়নি৷ অনুতাপ থেকেই এসব বলছেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও একদিন এরকম অনুতাপ হবে৷

নিউমোনাইটিসে আক্রান্ত হয়ে গত শুক্রবার রাতেবেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন তাঁর বুকের এক্স রে করা হয়। নার্সিংহোম সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর অবস্থার ক্রমশই উন্নতি ঘটছে। এক্স রে রিপোর্টও ভালই। তাঁর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়েছে। সেই সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণও ক্রমশ কমে আসছে। তবে এখনও তাঁকে অক্সিজেন দিতে হবে। গত কাল রাতেও তাঁকে ছ’ঘণ্টা বাইপ্যাপ দেওয়া হয়।

নার্সিংহোম সূত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্বাভাবিক ভাবেই খাবার খাচ্ছেন। এ দিন সকালে তাঁকে আইসক্রিম, পেঁপে ও চা দেওয়া হয়েছিল। তা খেয়েছেন তিনি। দুপুরে দই ভাত খান তিনি। দিন কয়েকের মধ্যে তাঁকে ছুটিও দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ দিন তাঁকে দেখতে নার্সিংহোমে যান বিমান বসু, শ্যামল চক্রবর্তী, সুজন চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য সিপিএম নেতারা। গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও কৈলাশ বিজয়বর্গীয়৷