ঢাকা: আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা রয়েছে৷ ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা আগেই বার্তা দিয়েছে হামলার৷ ফলে রমজান মাস ও বুদ্ধ পূর্ণিমা ঘিরে বাংলাদেশ জুড়ে জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা৷ বিভিন্ন হোটেলে ইফতার ও বৌদ্ধ মঠগুলির প্রার্থনার সময়ে থাকছে সতর্কতা৷ ২০১৬ সালে এমনই রমজান চলাকালীন ভয়াবহ গুলশনের হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলা হয়েছিল৷ ৫ জঙ্গি ২৯ জনের মৃত্যু হয়৷ জঙ্গিরা কুপিয়ে-গুলি করে খুন করেছিল বাকিদের৷ পরে সেনা অভিযানে সব জঙ্গি খতম হয়৷ এর দায় নেয় আইএস৷

এবার ইসলামিক স্টেট আগে থেকে বাংলায় পোস্টার ছেড়ে সোশ্যাল সাইটে হুমকি দিয়েছে হামলার৷ সেই হুমকি ও শ্রীলংকায় আইএসের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশ সরকার বুদ্ধ পূর্ণিমায় নিরাপত্তার কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না৷ বাংলাদেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ মঠ ও ঢাকার মঠগুলিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী শুক্র ও শনিবার উৎসবকে ঘিরে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ছক। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অগ্রিম সংবাদ সংগ্রহ করে পুলিশদের সরবরাহ করবেন। ডিএমপি কমিশনার মহম্মদ আছাদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আগামী ১৭ মে শুক্রবার বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের আয়োজিত শান্তি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রাটি শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হবে। শনিবার সকাল ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার আয়োজিত শান্তি শোভাযাত্রা হবে৷ এই শোভাযাত্রায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকছে৷

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে থাকছে কড়া পাহারা৷ সব বৌদ্ধ মন্দির ও তার আশপাশের এলাকা সিসি টিভি আওতায় আনা হবে। মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব দর্শনার্থীকে বিশেষ তল্লাশির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে৷ বুদ্ধ মন্দিরের নিরাপত্তার জন্য মঠ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে এবং তাদের আলাদা পোশাক, আর্মড ব্যান্ড বা আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া সব ধরনের মাদকদ্রব্য, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস উড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

নামাজের সময় সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখতে হবে। সর্বসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য মন্দিরের আশপাশে কোনও ভাসমান দোকান ও হকার বসতে দেয়া হবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে মন্দির সংশ্লিষ্ট রাস্তায় পর্যাপ্ত ব্যারিকেড থাকবে। সন্দেহভাজন কাউকে মন্দিরে প্রবেশের পূর্বে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে প্রবেশ করাতে হবে। বড় ব্যাগ, ব্যাক-প্যাক, পোঁটলা, ধারালো কোনও বস্তু, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মন্দির ও অনুষ্ঠান স্থলে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। অনুষ্ঠানস্থলে বম্ব ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করানো হবে। অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা হিসেবে পর্যাপ্ত ফায়ার টেন্ডার ও দ্রুত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে।

শোভাযাত্রা শুরুর পূর্বে সবাইকে তল্লাশি করে শোভাযাত্রায় প্রবেশ করানো হবে। শোভাযাত্রা শুরুর পর পথ থেকে কাউকে নতুন করে ঢুকতে দেয়া হবে না। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে শোভাযাত্রার চারপাশ বেষ্টনী দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শোভাযাত্রায় কোনও ধরনের ব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক, দাহ্য পদার্থ, ধারালো বস্তু, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে। অনুষ্ঠানস্থল ও শোভাযাত্রায় অপরিচিত কোনও লোক বা অস্বাভাবিক কিছু দেখলে পুলিশকে অবহিত করা সহ বুদ্ধ পূর্ণিমার নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রমে নগরবাসীকে সহায়তা করার জন্য সভায় বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ৷