ঢাকা: বাংলায় পোস্টার দিয়ে হামলার কথা জানিয়েছে ইসলাম্কি স্টেট৷ সেই হুমকি হাল্কা ভাবে নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই৷ বাংলাদেশ ও ভারতে আইএস হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না৷ এমনই জানিয়েছেন বাংলাদেশের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, আমরা কোনও আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছি না। সব আশঙ্কার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ সতর্ক৷

বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হচ্ছে বাংলাদেশে৷ এই উৎসবের দিনেই বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলার আশঙ্কা করা হয়েছে৷ ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগের কাছে তথ্য পাওয়ার পরেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সর্বত্র ধর্মীয়স্থানগুলিকে কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে৷ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা যা বলছে তা আমরা জেনেছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে। কোনও আশঙ্কাই আমাদের দৃষ্টির বাইরে নয়। সবগুলো বিষয় আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সেজন্যই আমরা অনেকগুলো ক্ষেত্রে সফল হয়েছি।

বুদ্ধ পূর্ণিমা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশে প্রায় আড়াই হাজার বৌদ্ধমন্দির বা প্যাগোডা রয়েছে। সেগুলোর নিরাপত্তার জন্য আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী কাজ করছে। আমরা কোনও আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছি না। সব আশঙ্কার বিষয়ে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। ঢাকা শহরে যে চারটি মন্দির বা প্যাগোডা রয়েছে সেখানে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা রয়েছে, সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে।

কক্সবাজারের বৌদ্ধ মন্দিরগুলোকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে ক্যাম্প থেকে। নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গারা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি-না বা কোন ধরনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যত্যয় ঘটতে পারে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি কোনও ধরনের ব্যত্যয় ঘটবে না। এখানে একটা উত্তেজক পরিস্থিতি হতে পারে। আমরা এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি এ ধরনের কোনও আভাস পাইনি। রোহিঙ্গাদের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, সেটা যেমন ঠিক, তেমিন আমরা কিন্তু তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তারা যাতে সুস্থভাবে থাকতে পারে আমরা তার সব ব্যবস্থা করেছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইএস নাম টিকিয়ে রাখার জন্য অপকৌশল নিচ্ছে। এই এলাকায় নতুন ধরনের কর্মকাণ্ড চালাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। হোলি আর্টিজানের পর শোলাকিয়া, আশুলিয়া, বান্দরবান, কল্যাণপুরে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘুরে দাঁড়ানোর ডাকে সবাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে যারা নিহত হয়েছিল তাদের স্বজনরাও কিন্তু দেহ নিতে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে যে, এরা আমাদের সন্তান নয়, আত্মীয় নয়। আমাদের দেশের মানুষ এ ধরনের জঙ্গিদের কখনোই প্রশ্রয় দেয় না।

রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে সরকারের তৎপরতা সম্পর্কে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রোহিঙ্গারা সব কিছু হারিয়ে এসেছে। স্বাভাবিকভাবে তারা যে কোনও চ্যালেঞ্জে রাজি হয়ে যেতে পারে। রোহিঙ্গারা ইন্টারন্যাশনাল টেররদের সহজ শিকার হয়ে যেতে পারে। কাজেই এই সমস্যা তাড়াতাড়ি সমাধান করতে হবে।