সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : ওরা জানেন না ওদের চাকরি আর কতদিন থাকবে। বাকি পরে রয়েছে প্রায় ৬ মাসে মাইনে। জানেন না কোনও অন্ধকার নেমে আসবে কি না পরিবারে। ভবিষ্যৎ পেন্ডুলামের মত দুলছে। এসপার নয় ওসপার। চাকরি বাঁচাতে তাই প্রতিবাদে নামলেন বিএসএনএলের কলকাতা বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। তবে কাজের সময় বাঁচিয়ে।

বুধবার সিটিও বিল্ডিংয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে নামেন বিএসএনএলের কলকাতার অস্থায়ী কর্মীরা। দুপুর দেড়টা থেকে দুটো পর্যন্ত টিফিন টাইম। এদিন অফিসে এসে সকালের কাজকর্ম সেরে টিফিনের সময়ে প্রতিবাদে নামেন ওই কর্মীরা। “কনট্রাক্টরের কাজ যাবে কেন সিজিএম সাহেব জবাব চাই জবাব দাও”সহ নানাবিধ স্লোগান দিয়ে শুরু হয় আন্দোলন। আধঘণ্টা ধরে আন্দোলন চলে।

এই আন্দোলনের বিএসএনএল কর্মী সংগঠনের সম্পাদক সুভাষ কুমার কর বলেন , “আমাদের দলনেতা আমাদের শিখিয়েছেন। কাজের সময় কাজ করতে হবে। তাই আমরা কাজটা করে রেখেছি। তারপর টিফিন টাইমে আমাদের আন্দোলনে নেমেছি। কাজ বন্ধ করে আন্দোলন আমাদের দাবি নয়।” একইসঙ্গে তিনি বলেন , “যদি আমরা মানে অস্থায়ী কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেই তাহলে সারা পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে বিএসএনএল যে পরিষেবা সেয় টা পুরো স্তব্ধ হয়ে যাবে। অস্থায়ী কর্মীদের দিয়েই চলছে সরকারি সংস্থা। আমরা না হলে চলবে না কোম্পানি, আর আমরাই পরিষেবা পাবো না কেন ? এই দাবিতেই আমরা আজ প্রতিবাদে নেমেছিলাম।”

এদিন সিজিএমের হাতে অস্থায়ী কর্মীরা তাদের দাবিপত্র পেশ করেন। চচটজলদি সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। সুভাষ কুমার কর বলেন , “আজ ৬ মাস হয়ে গিয়েছে আমাদের মাইনে হচ্ছে না। প্রত্যেকটি পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কিভাবে এটা দিনের পর দিন চলতে পারে?” প্রসঙ্গত শুধু কলকাতায় নয় জেলায় জেলায় তাদের কর্মী ছাঁটাই এবং মাস মাইনের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএসএনএলের অস্থায়ী কর্মীরা।

এদিন সিজিএম কর্মীদের আশ্বস্ত করে জানান যে, কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে না। ১৯ এপ্রিলের মধ্যে অস্থায়ী কর্মীরা পেয়ে যাবেন প্রথম দুই মাসের মাইনে। তারপরে যত দ্রুত সম্ভব বাকি চার মাসের মাইনেই সমস্ত মিটিয়ে দেওয়া হবে।

মার্চ মাসেই জানা গিয়েছিল, ১.৭৬ লক্ষ স্থায়ী কর্মচারীকে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)। এই প্রথম এত গভীর সঙ্কটে পৌঁছায় রাষ্ট্রীয় টেলিকম সংস্থা। বিএসএনএল কর্মচারীদের ইউনিয়ন টেলিকম মন্ত্রী মনোজ সিনহাকে লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন, সরকারি অনুদান চাই। একইসঙ্গে এই সংস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলার অনুরোধ করেছিলেন ইউনিয়নের সদস্যরা। বিএসএনএল-এর রাজস্বের প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয় কর্মচারীদের বেতন দিতে। মুশকিল হলো, বছরে ৮ শতাংশ করে বেড়ে চলেছে কর্মীদের বেতন। কিন্তু থমকে রয়েছে বিএসএনএল-এর রাজস্ব বৃদ্ধির হার।

আর্থিক সঙ্কটের জন্য রিলায়েন্স জিওকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল বিএসএনএলের ইউনিয়ন। মনোজ সিনহাকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছিল, “অন্যান্য অপারেটররাও আর্থিক সঙ্কটের মোকাবিলা করছে, কিন্তু তারা বিশাল পরিমাণে বিনিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।” বিএসএনএল-এর তরফে জানানো হয়েছিল, কোম্পানি এখন কেরালা, জম্মু-কাশ্মীর, ওড়িশা এবং কর্পোরেট অফিসে কর্মীদের ফেব্রুয়ারির বেতন দিতে শুরু করেছে। “যখন বিএসএনএলের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে, তখন কর্মীদের বকেয়া বেতন দেওয়া হবে। সরকার কোন আর্থিক সহায়তা করে নি, তাই বেতন দিতে দেরি হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত বিএসএনএলের ক্ষতি প্রতি বছর বাড়ছে। ২০১৭ সালে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪,৭৮৬ কোটি টাকা। এ বছরের শুরুতে ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৮,০০০ কোটি টাকা।