সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘একটিও ভোট বিজেপিকে নয়’। এমনটাই দাবি, বিএসএনএল অস্থায়ী কর্মীদের। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তার আগে বিএসএনএলের অস্থায়ী কর্মীদের বসিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএসএনএল ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছেন। তারপরেই তড়িঘড়ি বিএসএনএল প্রধান জানিয়ে দিলেন কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে না।

রাজ্যের বিএসএনএলের অস্থায়ী কর্মীদের তৈরি সংগঠনের দাবি, এসবই ভোট পাওয়ার চেষ্টা। ক্ষমতায় এলে ফের একই সমস্যা হবে। তাই একটিও ভোট যেন বিজেপিকে দেওয়া না হয়।

সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা টেলিকম দফতর থেকে ২০০০ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড-এ পরিণত হয়। তারপরে কুড়ি বছরও পেরোয়নি কেন্দ্রীয় সরকারি টেলি সংস্থার বেহাল দশা।

ক্ষতির অংক বাড়তে থাকাই ছাঁটাই পর্বের খবর পাওয়া যায়। প্রথম কোপ পড়তে পারে অস্থায়ী কর্মীদের উপর। এই খবরের পরেই বিভিন্ন রাজ্যের বিএসএনএলের অস্থায়ী কর্মীদের সংগঠনগুলি সোচ্চার হয়েছে। এদিকে শুধুমাত্র বাংলাতেই ১০ হাজার অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার বিএসএনএলের কর্তৃপক্ষ এসব গুজব বলেই চালাতে চাইছে।

তবে বাংলার বিএসএনএল অস্থায়ী কর্মীরা মনে করছেন , এসবই ভোটের কথা মাথায় রেখে এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিএসএনএলের অস্থায়ী কর্মীদের সংগঠনের সম্পাদক সুভাষ কুমার কর বলেন , “আমরা আগেও বলেছি এখনও বলব এই যে কর্মী ছাঁটাই হবে না বলাটা আসলে আসলে ভোট পাওয়ার কায়দা। কাজ থাকবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটটা আদাই করতে চাইছে। আমরা জানি ভোট মিটলে আবার একই সমস্যা হবে। ফের কর্মী ছাঁটাই করার প্রশ্ন উঠবে। তাই আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি যে বিজেপিকে ভোট দেবেন না।” একইসঙ্গে তিনি বলেন , “পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার অস্থায়ী কর্মী রয়েছে। প্রতি পরিবার থেকে যদি তিনটে করে গড়ে ভোট পাওয়া যায় তাহলে সাত লক্ষ আশি হাজার ভোট। তাহলে কেন ছাঁটাই আটকাবে না।”

এদিকে পাশপাশি সংবাদ মাধ্যমে খবর রটেছে গোটা দেশে বিএসএনএলের ৫৪ হাজার স্থায়ী কর্মী ছাটাই হতে চলেছে স্বেচ্ছা অবসর অথবা অবসরের বয়স কমিয়ে আনার মাধ্যমে৷ পাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় তাই ভোট পর্যন্ত তা ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে । সরকারের তৈরি বিশেষজ্ঞ কমিটি বিএসএনএলের হাল ফেরাতে মোট ১০টি সুপারিশ করেছিল। যার মধ্যে তিনটি অনুমোদন করেছে বিএসএনএল বোর্ড। অনুমোদিত সুপারিশ গুলি হল, অবসরের বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৮ করা, ৫০ বছরের বেশি বয়সী কর্মীদের ভিআরএস দেওয়া এবং বিএসএনএলেকে ৪জি স্পেকট্রাম দ্রুত বরাদ্দ করা৷