কলকাতা:  যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে চলেছে ভারত আর বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বিডিআর। আগামী ৯ ডিসেম্বর এই মহড়া হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে এই মহড়া হবে। যেখানে প্রায় বিএসএফ এবং বিজিবির প্রায় দুশো সদস্য এই মহড়ায় অংশ নেবে। মহড়ায় দুই বাহিনীর সদস্যরা যেমন যৌথভাবে নদীতে প্রহরায় অংশ নেবে। তেমনি একসঙ্গে মাছের ট্রলার বা নৌকাতে তল্লাশি চালাবে বা জেলেদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখবে।
বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলের আইজি সন্দীপ সালুঙ্কে বিবিসিকে জানিয়েছেন, গতবছর দুই বাহিনীর প্রধানদের বৈঠকেই এই ধরনের যৌথমহড়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। কয়েকদিন আগে ঢাকায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্দীপ সালুঙ্কে জানিয়েছেন, দুই বাহিনীর মধ্যে এই মুহূর্তে এযাবতকালের মধ্যে সবথেকে ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। মূলত সেটাকেই যৌথমহড়ার মাধ্যমে আরও দৃঢ় করতে চাই আমরা।
সুন্দরবনের ইছামতী, কালিন্দী প্রভৃতি নদী এলাকায় আর তীরবর্তী এলাকায় এই যৌথ মহড়া চলবে। সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য রুটেও যৌথ পাহারা চলবে। মহড়ায় স্পিডবোট, বড় নৌযান এবং ভাসমান সীমান্ত চৌকি ব্যবহার করা হবে বলে বিএসএফের সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
ভারত নিয়মিতই অন্যান্য দেশের সঙ্গে সেনামহড়া করে। কিন্তু কোনও সীমান্তরক্ষীবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী এই প্রথম মহড়া দিতে চলেছে। বিএসএফ আধিকারিকরা আসা করছেন, যৌথমহড়ায় বাহিনী দুটির সাধারণ সদস্যরাও এবার থেকে একে অপরকে আরও ভালভাবে বুঝতে পারবে। তবে দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের নাগরিকদের একাংশ বা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এখনও বিএসএফকে একটি ‘ট্রিগার হ্যাপি ফোর্স’ (যারা গুলি চালাতে অভ্যস্ত) বলেই মনে করে থাকে। বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে একাধিকবার আশ্বাস সত্ত্বেও সীমান্ত হত্যা এখনও শূন্যে নামিয়ে আনা যায়নি।