বিভাস ভট্টাচার্য, কলকাতা: সীমান্তে জনসংযোগ গড়তে এ বার সীমান্ত সংলগ্ন স্কুলগুলিতে আর্থিক সাহায্য করবে বিএসএফ (BSF)৷ এ ব্যাপারে প্রথমে তারা বেছে নিয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন হাসনাবাদের একটি স্কুলকে৷ আপাতত এই স্কুলটি নিয়েই এগোতে চায় সীমান্তের সুরক্ষার দায়িত্ব থাকা ভারতীয় এই বাহিনী৷ বিএসএফ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, স্কুলটিকে তারা নতুন করে গড়ে দেওয়া ছাড়াও স্কুলটির জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ব্ল্যাকবোর্ড ও অন্যান্য জিনিসপত্র তারা সরবরাহ করবে৷ এ ব্যাপারে বেসরকারি একটিপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলছে বিএসএফ৷ খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিএসএফ-র এক কর্তা৷

এ বিষয়ে জানাতে গিয়ে বিএসএফ-র দক্ষিণবঙ্গের আইজি পিএসআর অঞ্জনেইলু বলেন, ‘‘দেখা গিয়েছে যে, সীমান্ত এলাকায় বহু মানুষ আছেন যাঁরা এখনও বিএসএফ-এর থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয় মনে করেন৷ হতে পারে তাঁদের ভিতর কিছুটা ভীতি কাজ করে৷ এই ভীতি দূর করতে এবং সীমান্তের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আমাদের একটা নিবিড় যোগাযোগ  অত্যন্ত জরুরি৷ আপাতত স্কুলটির সংস্কার ও লেখাপড়ার বিষয়ে সাহায্য করা ছাড়াও ভবিষ্যতে আমরা চেষ্টা করব যাতে আমাদের সঙ্গে এলাকার বিদ্যার্থীদের মধ্যে একটা নিবিড় যোগাযোগ গড়ে ওঠে৷’’

কখনও স্কুল সংস্কার আবার কখনও অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির স্থাপন, জনসংযোগের এই চেষ্টা বিএসএফ বিভিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে৷ গত ৫ মার্চ হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় এক স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ বেসরকারি বিভন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিএসএফ এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করে যাচ্ছে৷ কিন্তু আপাতত এই বিষয়গুলি ছাড়াও জনসংযোগের লক্ষ্যে বিএসএফ চেষ্টা করছে শিশুদের সঙ্গেও নিয়মিতভাবে যোগাযোগ তৈরি করতে৷
বিএসএফ-র ওই কর্তার কথায়, ‘‘দেখা গিয়েছে দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে বেশ কিছু অপরাধী শিশুদের সাহায্যেও অপরাধ চালায়৷ যেমন মালদহে  জালনোট পাচারের কাজে কখনও কখনও শিশুদেরও কাজে লাগিয়ে দেয় চোরাকারবারীরা৷ কারণ শিশুদের কাজে লাগালে চট করে সন্দেহটা আসে না৷ ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকার স্কুলগুলিতে বিএসএফ কী কাজ করে এবং কীভাবে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বেশি করে সীমান্তের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়েও আমাদের চিন্তাভাবনা আছে৷’’

কখনও কখনও এরকম দেখা গিয়েছে যে বিএসএফ-এর সঙ্গে সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীদের মধ্যে অশান্তিও হয়েছে৷  পরস্পরের সঙ্গে ছোটখাটো সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েছে উভয় পক্ষ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয়েছে বিএসএফ-এর উচ্চ পদাধিকারী আধিকারিকদের৷ গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন তাঁরা৷

বিএফএফ-এর আইজি-র কথায়, ‘‘এটা দেখা গিয়েছে, এখনও বহু মানুষের এই ধারণাটাই নেই যে বিএসএফ ঠিক কী কাজ করে৷ এই ধারণাটা সবার আগে তাঁদের ভিতর তৈরি করা দরকার এবং তার জন্য দরকার নিবিড় জনসংযোগ৷ এই ধরনের কাজ বিএসএফ যত বেশি পরিমাণ করতে পারবে, ততই সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজের ব্যাপারে বিএসএফ একটা স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করতে পারবে৷ সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি আমরা৷’’