কলকাতাঃ শনিবার ছিটমহলে ঢুকতে না দেওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন অভিনেত্রী তথা চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন। কিন্তু রবিবারে তিনি জানালেন, বিএসএফ তাঁদের কোচবিহারের ছিটমহলে ঢুকতে না দিলেও সেখানকার মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে কোনও বাধা দেননি।

তিনি বলেন, বিএসএফ তাদের কাজটাই করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম ক্ষোভ নেই। সেখানকার মানুষদের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যার ফলে সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি কী, তাঁরা বুঝতে পেরেছেন।

শনিবার অপর্ণা সেন, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়-সহ বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী মানুষ ছিটমহলে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান। আর তারপরেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এছাড়াও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। কোচবিহারের দিনহাটার কোড়োলা গ্রামের ছিটমহলে বসবাসকারী ১১টি পরিবারের ৫০ জনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন তাঁরা।

তবে বিএসএফের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্ত ছিটমহলে ঢুকতে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রয়োজন। আর কোচবিহার গুয়াহাটি বিএসএফের আওতাধীন। এছাড়াও সেখানকার জেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হয়। এই প্রসঙ্গে শনিবার টুইট করে তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন অপর্ণা সেন-সহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবীরা। আঙুল তোলেন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে। তবে একদিনের মধ্যেই সুর বদলানোয় একটু অবাক হয়েছেন অনেকেই।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে স্থায়ী একটি জটিল ইস্যুর সমাধান হিসাবে ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৫ তে ছিটমহল বিনিময় করেছে। ১৯৭৪ সালের স্থলসীমা চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রোটোকল এবং অনুমোদন অনুসারে বাংলাদেশের ১১১ টি ভারতীয় ছিটমহল এবং ভারতের ৫১ টি বাংলাদেশী ছিটমহল বিনিময় হয়। এই বিনিময়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দিকের মানুষজনদের সরকারের তরফ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ সকল বিষয়ে সুবিধা দেওয়া, যা সেখানকার মানুষ পায় না।