ফাইল ছবি। ঘটনার সঙ্গে কোনও মিল নেই।

লখনউ: পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইকে তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এক বিএসএফ জওয়ানকে৷ নয়ডা থেকে উত্তরপ্রদেশ এটিএস বা সন্ত্রাস দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হয় ওই ব্যক্তি৷ রাজ্য পুলিশ প্রধান ও পি সিং এই খবর জানান সাংবাদিকদের৷

অচ্যুতানন্দ মিশ্র নামে ওই বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি মধ্যপ্রদেশের রেওয়া এলাকায়৷ ওই জওয়ান পাকিস্তানের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেন বলে খবর৷ হানি ট্র্যাপের মাধ্যমেই ওই জওয়ানের থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য হাতিয়ে নেয় আইএসআই বলে মনে করা হচ্ছে৷ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজিপি বলেন ডিফেন্স রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক মহিলার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হয় ওই জওয়ানের৷ যে মহিলা আসলে পাকিস্তানের হানি ট্র্যাপের হাতিয়ার৷

এরপরেই ওই জওয়ানের থেকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও অ্যাকাডেমি সম্পর্কে তথ্য জানতে থাকে ওই মহিলা৷ জানতে পারে বিএসএফের ইউনিট অপারেশনস সম্পর্কেও৷ আর কি কি তথ্য ওই বিএসএফ জওয়ান মহিলাকে জানিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন সন্ত্রাস দমন শাখা ও বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা৷ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ধৃত জওয়ানকে৷ তাঁর বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বা রাষ্ট্রীয় তথ্য গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

২০০৬ সালে বিএসএফে যোগ দেন অচ্যুতানন্দ মিশ্র নামের ওই জওয়ান৷ ২০১৬ সালের কোনও সময়ে ওই মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় অভিযুক্ত জওয়ানের৷ এমনকী হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের মধ্যে কথা হত বলে জানা গিয়েছে৷ কথা বলার জন্য পাকিস্তানের নম্বর দেওয়া একটি সিম কার্ডও নিয়েছিলেন ওই জওয়ান৷ মহিলার নাম ও নম্বর জওয়ানের মোবাইলে পাকিস্তানি বন্ধু নামে সেভ করা ছিল৷

হানি ট্র্যাপ পাকিস্তানের বহু পুরনো এক ফাঁদ৷ এই ফাঁদে পা দিয়েছেন অনেক ভারতীয় সেনাকর্মীই৷ পাকিস্তানি গুপ্তচরেরা ফাঁদ পেতেছে ফেসবুকেও। ফেসবুকে কিছু ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে, সেখানে মেয়েদের দিয়ে মধুচক্রের ফাঁদ পেতে রেখেছে তারা। ভারতীয় সেনা জওয়ানরা খুব সহজেই তাতে পা দিচ্ছেন। আর এর মাধ্যমেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে তাঁদের যাবতীয় গোপন তথ্য। এদের টার্গেটে রয়েছেন ভারতীয় সেনা জওয়ান, বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন অফিসারেরা।