ঢাকা:  ফের উত্তপ্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি। বাংলাদেশের শেরপুরের ঘটনা। মৃত দুই যুবকের নাম উকিল মিয়া ও খোকন মিয়া বলে জানা গিয়েছে। গভীর রাতে সীমান্ত পিলার ১০৯২ সংলগ্ন জিরো পয়েন্টের মারাংপাড়া ব্রিজের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে বলে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে সীমান্তে সন্দেহজনকভাবে তাদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বারবার অ্যালার্ট করা সত্ত্বেও সতর্ক না হলে গুলি চালানো হয় বলে জানা যায়।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, নিহত উকিল মিয়া সিংগাবরুনা ইউনিয়নের মেঘাদল গ্রামের বঙ্গ সুরুজ মিয়ার ছেলে ও খোকন মিয়া মাটিফাটা এলাকার আজিজুল মেম্বারের ছেলে।

শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উকিল মিয়া ও খোকন মিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উকিল মিয়া ও খোকন মিয়া সংঘবদ্ধ গরু চোরাকারবারিদের সঙ্গে রাতে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। সেই সময় বিএসএফ গুলি ছুড়লে এই দুই জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে চোরাকারবারি দলের অন্য সদস্যরা তাদের রাবার বাগান পানবাড়ি এলাকায় এনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সেখানেই উকিল মিয়ার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে খোকন মিয়ার মৃতদেহ সোমবার বিকেলে রাবার বাগানের পাশে একটি ঝোপ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে।

এদিকে বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে ফ্লেগ মিটিং হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহের ৩৯ বিজিবি অধিনায়ক শহিদুর রহমান ও ২৬ বিএসএফ অধিনায়ক বিশাল রানে। দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অর্থাৎ বিএসএফ এবং বিজিবি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রসঙ্গত গত কয়েকদিন আগে ইলিশ মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। এক মৎস্যজীবীকে ছাড়িয়ে আনতে বিজিবির সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে বিএসএফ। যদিও বিএসএফের তরফে কোনও গুলি ছোঁড়া হয়নি। উলটে বিজিবি’র ছোঁড়া গুলিতে মৃত্যু হয় বিএসএফের এক কর্তব্যরত জওয়ানের। ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরও এক জওয়ান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সীমান্তে উত্তেজনা।