স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: গ্রামে ঢোকার দুই কিলোমিটার আগে রাস্তায় বিএসএফের চেকপোস্ট তৈরি করেছে। যার ফলে বাসিন্দাদের হয়রানি হতে হচ্ছে। এছাড়াও মহিলাদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে, জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন মিলি সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দারা। বুধবার কালিয়াচক থানার আকন্দবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিক সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দারা ওই এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বনাথ ঘোষের নেতৃত্বে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হন। তাদের গ্রামে বিএসএফ যেভাবে হয়রানি করছে সেই সমস্যার বিষয়গুলি নিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয় জেলাশাসক রাজশ্রী মিত্রের কাছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে গ্রামবাসীরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিন ডেপুটেশন দিতে আসা গ্রামবাসীরা জানান, কালিয়াচক ব্লকের আকন্দবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিক সুলতানপুর গ্রামে বিএসএফ নানাভাবে সমস্যা তৈরি করছে। এই গ্রামের অন্তত দশ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নিজের মর্জিমতো একটি চেকপোস্ট তৈরি করেছে। আর এই কাজ করেছে বিএসএফের ২৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, মিলিক সুলতানপুর গ্রামের যাতায়াত করতে গেলে বাসিন্দাদের পরিচয় পত্র দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বাইরে থেকে আত্মীয়েরা ঘুরতে এলে তাদের সন্ধ্যার মধ্যে গ্রাম থেকে ফেরত যেতে বলা হচ্ছে। মেয়েদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। জমি থেকে ফসল, সবজি নিয়ে গেলে তা মাটিতে বিছিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন – কামদুনি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে হাইকোর্টে নির্যাতিতার পরিবার

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকাতেই বিএসএফ তদারকি করতে পারে। কিন্তু গ্রামের ভিতরে বিএসএফের এইভাবে নজরদারি চালানো, এবং চেকপোস্ট তৈরি করে গ্রামবাসীদের হয়রানি করা মোটেই সঠিক কাজ নয়। এর জন্য জেলা পুলিশ ও প্রশাসন রয়েছে। বিএসএফ কেন চেকপোস্ট তৈরি করে গ্রামবাসীদের হয়রানি করবে তা নিয়েই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএফের এমন কাজে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছেন কয়েক হাজার গ্রামবাসী । এই সমস্যা সমাধানের জন্য এদিন জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, ‘মিলিক সুলতানপুর গ্রামের ভিতরে বিএসএফ বাঁশ দিয়ে অন্যায় ভাবে চেক পোস্ট করেছে। সেই চেকপোস্ট করে গ্রামবাসীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তল্লাশির নামে মেয়েদের শরীরে হাত দেওয়া হচ্ছে। ওই গ্রামে বাইরে থেকে আত্মীয়রা এলে তাদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। বস্তাবন্দি ফসল নিয়ে আসলে তা রাস্তায় ফেলে দেখা হচ্ছে। তল্লাশির নামে বিএসএফের হয়রানি এবং খারাপ আচরণে জেরবার গ্রামবাসীরা। তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে এদিন জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।’

যদিও এই ব্যাপারে বিএসএফের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করার কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।