স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে যে ভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল, সে ভাবেই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল ভবনে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগে সুর চড়ালেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

নেতাজির উদাহরণ দিয়ে শুক্রবার ব্রাত্য বলেন, ‘‘যে ভাবে অবাঙালিদের দিয়ে সুভাষ বসুকে কোণঠাসা করা হয়েছিল, সেই একই ভাবে উত্তর ও পশ্চিম ভারত থেকে লোক পাঠানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ন্ত্রণ করতে। বাংলার মানুষ কি এটা মেনে নেবেন?’’

আক্রমণাত্মক ঢংয়েই ব্রাত্য বলেন, ‘‘আমাদের মাথার উপর অন্য রাজ্যের নেতারা এসে বসবেন, শাসন করবেন আর বলবেন রবীন্দ্রনাথের জন্ম বোলপুরে! আদিবাসী নেতার গলায় মালা দিয়ে বলবেন বিরসা মুণ্ডার গলায় মালা দিয়েছেন! এগুলো মেনে নেওয়া হবে না।’’

বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন,” যাদের ঠাকুরদা-রা ১১২ বছর জোয়ার বা বাজরার জমিতে হিসেব করছেন, তখন গলায় দড়ি দিচ্ছেন ক্ষুদিরাম। রাইটার্স দখল করতে গিয়ে শহিদ হন বিনয়, বাদল, দীনেশ। তখন তাঁদের পিতামহরা চাষবাসের হিসেব করছেন। বাপ-ঠাকুরদা ব্রিটিশদের জোয়াল কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

‘একটাও ইউপি বা গুজরাটের লোক দেখাতে পারেন, যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন? আন্দামানের সেলে সাভারকর পাঁচ বার মুচলেকা দিয়েছিলেন। উল্লাসকর দত্ত, বারীন ঘোষরা বছরের পর বছর পচেছেন জেলে। তাঁদের কারও নামে আন্দামানের সেল হয় না। নামকরণ হয় পাঁচ বার মুচলেকা দেওয়া বিনায়ক দামোদার সাভারকরের নামে। তাঁরা এসে বলছেন বাংলা চালাব। বাঙালিকে চালাব!”

ব্রাত্য বলেছেন, ‘‘আরএসএসের প্রধান পদে তো কোনওদিন কোনও বাঙালিকে বসানো হয়নি! হয় তেলুগু ব্রাহ্মণ বা মরাঠি ব্রাহ্মণকে বসানো হয়েছে ওই পদে।’’ রাজ্যের এই মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, রাম মন্দিরের আশেপাশে ১৮টি মন্দির রয়েছে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির তো সেখানে নেই!

আমেরিকার হবু প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্যাবিনেটে বাঙালি অরুণ মজুমদারের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে ব্রাত্য বলেন, ‘‘বাঙালির গুরুত্ব আমেরিকাও বোঝে। কিন্তু মোদী বোঝেন না।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বিজেপি সাত বছর ধরে কেন্দ্রে সরকার চালাচ্ছে। অথচ সেখানে একজনও বাঙালি পূর্ণমন্ত্রী নেই কেন?’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.