শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : বাম, কংগ্রেসের ব্রিগেড দেখে প্রমাদ গুণছে তৃণমূল কংগ্রেস। যারা বলতেন বামেরা এই রাজ্যে আণুবীক্ষণিক হয়ে গেছে, সেই বামেদের ব্রিগেডের ভিড় এবার সত্যি ভাবাচ্ছে তৃণমূলকে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতারা বাম, কংগ্রেসের এই ব্রিগেড নিয়ে মন্তব্য করা শুরু করেছেন। বলছেন, এই ভিড় ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের। তবে তৃণমূলের (Trinamul )এই মন্তব্যের পাল্টা মন্তব্য করেছেন বাম (Left ) নেতৃত্বও। সব মিলিয়ে ব্রিগেডের (Brigade) এই সমাবেশের বহর চিন্তা বাড়াচ্ছে তৃণমূলের। আর স্বস্তি বাড়াচ্ছে বাম, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (Indian Secular Front )।

ব্রিগেডের ভিড় নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে (Sougata Ray) প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “পশ্চ্যিমবঙ্গে ১০কোটি মানুষ থাকেন। ভিড় তো হবেই। আর এসেছে তো ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের লোকেরা। এর ফলে বিরোধী ভোট ভাগ হবে। যার সুবিধা তৃণমূলই পাবে।” কিন্তু যে দলকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা যায় তাদের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশে এতো ভিড়? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন সৌগতবাবু। তবে তিনি মানতে চাইছেন না যে এই ভিড়ে বাম, কংগ্রেসের (Congress ) বহু মানুষ আছেন। তাঁর দাবি, “এই ভিড় ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের ভিড়।”

এদিকে সৌগত রায়ের এই মন্তব্য নিয়ে সিপিএম (CPM ) নেতা ও দমদম উত্তরের বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যকে (Tanmay Bhattacharya ) প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “বিরোধী ভোটটা ভাগ হবে এটা সত্যি। আমরা প্রথম শক্তি হতে চলেছি। তাই ভোটটা ভাগ হবে তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে। আমরা প্রথম শক্তি হয়ে আত্মপ্রকাশ করবো । বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ভোটটা ভাগ হবে। আমরা ১৭৫ আসন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসবো। সৌগত রায়রা সেটা দেখবেন।”

এদিকে শনিবারই বিমান বসু (Biman Basu ) ব্রিগেডের সভা মঞ্চের আয়োজন দেখতে গিয়ে বলেছিলেন, “যারা বলেছিলেন বামেদের অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হয়, তাদের এবার আসল ছবি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।” বিমান বসু বুঝিয়েই দিয়েছিলেন ব্রিগেডের সমাবেশে বিপুল পরিমাণ মানুষ আসবেন। তিনি বলেও ছিলেন সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ ব্রিগেড আসবেন।”

আসলে এই ব্রিগেডের ভিড় যে হবেই সেটা বোঝাই যাচ্ছিল। কারণ এই ব্রিগেড শুধু বাম বা কংগ্রেসের ব্রিগেড নয়। এটা বাম, কংগ্রেসের যৌথ ব্রিগেড। সঙ্গে রয়েছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট। তাই ভিড় হবেই। কিন্তু এই ভিড়কে কতটা ইভিএম-এ পাঠাতে পারবে ৱাম, কংগ্রেস, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট জোট সেটাই এখন দেখার।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.