স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান : কলকাতায় টালা ব্রিজ বন্ধ হওয়ার পর থেকে চলছে বাস যাত্রীদের দুর্ভোগ। অনেকটা তেমনই পরিস্থিতি বর্ধমানেও। আরামবাগ রুটের সদরঘাটের ইডেন ক্যানেল সেতুকে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আর তার সঙ্গে শুরু হয়েছে যাত্রী দুর্ভোগ। যত দিন যাচ্ছে ক্রমে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শুক্রবার যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার নেয়। আচমকাই বাস মালিকরা এই রুটের সমস্ত বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। আগাম কোনেও ঘোষণা ছাড়াই এদিন সকাল থেকে বর্ধমান – বাঁকুড়া, বর্ধমান আরামবাগ রুটের সমস্ত বাস চলাচলই বন্ধ করে দেওয়ায় এদিন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

এদিন মুর্শিদাবাদ থেকে আরামবাগ যাবার জন্য এসেছিলেন সাহিদ খান। তেলিপুকুরে বাস থেকে নেমে তিনি জানতে পারেন আরামবাগ রুটের সমস্ত বাস চলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে। এমনকি বেসরকারী এই বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার পর এদিন সেভাবে দেখা মেলেনি সরকারী বাসেরও। হাতে গোনা কয়েকটি সরকারী বাস থাকলেও তা ছেড়েছে প্রায় ১ ঘণ্টা অন্তর। এর ফলে চুড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রীরা। বাসযাত্রী ইজাজুল খান জানিয়েছেন, ‘বাস না চলায় বেসরকারী বিভিন্ন পরিবহণ তাঁদের কাছ থেকে মোটা টাকা ভাড়া চাইছেন। যেখানে সাধারণ বাসের ভাড়া ৬০ টাকা সেখানে ট্রেকার, মারুতি ভ্যান, ছোট হাতির গাড়িগুলি নিয়েছেন ৮০ টাকা করে। এমনকি ই-রিক্সোও এদিন মওকা বুঝে মোটা টাকা হেঁকেছে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইডেন ক্যানেল সেতুকে মেরামত করার জন্য ২৩ জানুয়ারী থেকে ২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই সেতু দিয়ে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ জারী করা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই রুটের সমস্ত বাসকে পোলেমপুরে থামিয়ে দিয়ে সেখান থেকে যাত্রীদের ই-রিক্সা বা অন্য যানে তেলিপুকুর আসার জন্য বলা হয়। এজন্য পোলেমপুরে অস্থায়ী বাসস্ট্যাণ্ডও তৈরী করা হয়। বিভিন্ন বাস মালিক এ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠকে জেলা প্রশাসন একথা জানিয়েও দেন। কিন্তু তারপরেও শুক্রবার আচমকাই বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।

এই প্রসঙ্গে বর্ধমান জেলা বাস এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তুষার ঘোষ জানিয়েছেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে পুরনো ব্রীজ দিয়ে বাস যাতায়াত করার কথা ছিল। কিন্তু জেলাশাসক জানিয়ে দেন, পুরনো ব্রীজ দিয়ে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করানো যাবে না। এরপর পোলেমপুরেই বাস থামিয়ে দিয়ে সেখান থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। কিন্তু পোলেমপুরে বাস কর্মীদের টয়লেট, পানীয় জল বা আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এদিন বাস কর্মীরাই বাস চালাতে অস্বীকার করেন।’

তুষারবাবু আরও জানিয়েছেন, ‘এই ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) রজত নন্দার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি দ্রুত বাস কর্মীদের এই দাবী পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই শনিবার থেকে যথারীতি বাস চলাচল করবে।’ অন্যদিকে, এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলাশাসক রজত নন্দা জানিয়েছেন, ‘আচমকাই বাস মালিকরা কেন বাস বন্ধ করেছেন তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা কিছু অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। এরপরই দ্রুততার সঙ্গে সেই অসুবিধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে যেমন বাস চলে তেমন চলবে।’