স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান : না রয়েছে ব্রিজ আতঙ্ক। না কোনও ব্রিজ সারাইয়ের আগাম নির্দেশিকা। হঠাৎ করেই পণ্যবাহী ভারী ট্রাকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বর্ধমান শহরের রেলওয়ে ওভারব্রিজে। রেলওয়ে ওভারব্রিজ দিয়ে নো এন্ট্রি করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে কি ব্রিজের অবস্থা ভালো নয়। তাই কী এমন হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা? ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আবার ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন , যেটাই হোক না কেন কোনও নোটিশ নেই কেন? কারণ ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যবহণকারী ট্রাকগুলিকে আর এই ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কাটোয়া রোড এলাকার ব্যবসায়ীরা। কারণ এই কাটোয়া রোডের ধারেই রয়েছে একাধিক বড় কারখানা, বড় বড় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন কোম্পানীর ক্লিয়ার এণ্ড ফরওয়ার্ডিং এজেণ্টগুলি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০১০ সালের একটি নিয়মকে ফের লাগু করা হয়। এরফলে গত প্রায় চার দিন ধরে চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কোনও পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকতে না পারায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। একইসঙ্গে এই কাজে যুক্ত শ্রমিকরাও কাজ না পাওয়ায় তাঁরাও চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।

বর্ধমান ১নং ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কাকলি গুপ্ত জানিয়েছেন, ‘গত চার দিন ধরেই আচমকাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রিজ দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াতে নো এন্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে বর্ধমান ষ্টেশনের গুডসেড থেকে কোনো ট্রাক বার হতে পারছেন না। সকাল ৮টা থেকে রাত্রি ১০টা পর্যন্ত এই নো এন্ট্রি করায় সমস্যায় পড়েছেন যাঁরা রেক খালি করেন সেই শ্রমিকরাও।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘শহর লাগোয়া দুটি পার্কিং জোন রয়েছে। একটি দেওয়ানদিঘীতে এবং অন্যটি তালিত এলাকায়। কিন্তু গত ৪দিন ধরে কোনো পণ্যবাহী গাড়িকে দিনের বেলায় ঢুকতে না দেওয়ায় শ্রমিকরা তা খালিও করতে পারছেন না। এরই পাশাপাশি বাজেপ্রতাপপুর থেকে দেওয়ানদিঘী পর্যন্ত রাস্তার ভয়াবহ অবস্থা থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে।’

তিনি জানিয়েছেন, এই ওব্যাপারে এদিন জেলাশাসক বিজয় ভারতীর কাছে তাঁরা পুরনো নিয়ম অর্থাত দুপুরের দিকে ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আবেদন জানিয়েছেন, বাজেপ্রতাপপুর থেকে দেওয়ানদিঘী রাস্তাকে দ্রুত মেরামত করা হোক। উল্লেখ্য, উদ্ভূত এই সমস্যার জন্য এদিন জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এলাকার জনপ্রতিনিধি কাকলী গুপ্ত এবং বর্ধমান ৪নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার মহম্মদ আলি, ব্যবসায়ী এবং লেবার এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসাবে সুভাষ মোদক ও নুরুল আলম, সিএনএফের পক্ষে হাজির ছিলেন সুজিত মণ্ডল ও অভয় লাহা এবং গুডসেড ট্রাক এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে শ্যামল ঘোষ।

এদিন এই প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এদিন তাঁরা জেলাশাসকের কাছে সকাল ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর ১২টা থেকে ৩টে এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই নো এন্ট্রি তুলে নেওয়া হোক। পরিবর্তে তাঁরা চান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং দুপুর ৩টে থেকে রাত্রি ৮টা পর্যন্ত বজায় থাকুক নো এন্ট্রি। এরই পাশাপাশি এদিন ব্যবসাদাররা জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১০ সালের যে নিয়মকে পুনরায় লাগু করা হয়েছে তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ ২০১০ সালে কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রীজ যা নতুন করে তৈরী করা হয়েছে তা তখন তৈরী হয়নি। এমনকি ২০১০ সালের যানজটের চিত্রের সঙ্গে বর্তমান যানজটের চিত্রের অনেক ফারাক রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০১০ সালের এই নিয়মকে তুলে নেওয়ার আর্জি জানানো হয় এদিন জেলাশাসকের কাছে। এব্যাপারে জেলাশাসক জানিয়েছেন, ব্যবসাদাররা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। তিনি জানান, কোনো বড় শহরেই শহরের মধ্যে দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করতে দেওয়া হয়না। এব্যাপারে তাঁরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। অফিস টাইমে কি কি অসুবিধা সবকিছু যাচাই করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অপরদিকে, জানা গিয়েছে, কাটোয়া রেলওয়ে ওভারব্রিজ দিয়ে গাড়ি যাতায়াত নিতে ইতিমধ্যেই ডিএসপি (হেড কোয়ার্টার) শৌভিক পাত্র একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন জেলাশাসকের কাছে। সেখানে বেশ কয়েকটি জায়গায় গাড়ি চালকদের জন্য আগাম সতর্কতা বোর্ড দেবার নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই বোর্ডেই কোন্ কোন্ রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে না, বা কোন্ রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে উল্লেখ রাখার পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এরফলে গাড়ি চালকরা বিশেষত পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা অনেক আগে থেকেই নিজেরা প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV