মালদহ: পণের দাবিতে প্রতিদিনই নব বিবাহিত গৃহবধূর উপর শ্বশুরবাড়ির লোকের শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত। তাই আর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিল গৃহবধূ। মৃতদেহ ফেলে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেয় গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহর রতুয়া ২ নং ব্লকের পুখুরিয়া থানা এলাকার। আত্মহত্যার প্ররোচনায় শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে পুকুরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মাত্র সাত মাস আগেই বিয়ে হয় পুকুরিয়া থানার মিরজাদপুর জেলে পাড়ার মায়া মহালদারের সঙ্গে পীরগঞ্জের সনু সরকারের। বছর কাটতে না কাটতেই মায়ার মৃতদেহ ফিরে এল বাপের বাড়িতে। বিয়েতে মায়ার বাপের বাড়ি তরফ থেকে বরকে পণ বাবদ একটি মোটরসাইকেল, নগদ দেড় লক্ষ টাকা ও যৌতুক সামগ্রী দেওয়া হয়।

অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই সোনু সরকার ও তার পরিবারের সদস্যরা আরও বেশি পণের দাবি জানাতে থাকে। তাদের চাহিদা মতো টাকা না পেয়ে মায়ার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত তার স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। মায়ার উপর এই রূপ অত্যাচার নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এর আগে বেশ কয়েকবার তার বাপের বাড়িতে সম্পূর্ণ ঘটনা জানিয়েছিল মায়া। তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন বেশ কয়েক দফায় এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পণ দেওয়ার জন্য কিছুটা সময়ও চেয়ে ছিলেন তাঁরা৷ কিন্তু তাতেও দমেনি মায়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বরং দিন দিন অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলেছিল।

বৃহস্পতিবার মায়া তার বাপের বাড়ির লোকজনদের ফোনে তার উপর হওয়া অত্যাচারের কথা জানায়৷ মায়া তার বাবাকে এইরূপ অত্যাচার যে সে আর সহ্য করতে পারছে না তাও জানিয়েছেন। এরপর শুক্রবার ওই গৃহবধূর বাপের বাড়ির এক আত্মীয়কে ফোনে জানানো হয় মায়া তার ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে মায়ার বাপের বাড়ির লোকজন ছুটে যায় ঘটনাস্থলে।

ইতিমধ্যেই মায়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আরাইদাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। মায়ার মৃত্যু হয়েছে জেনে হাসপাতালে চত্বর থেকে মায়ার মৃতদেহ ফেলে চম্পট দেয় স্বামী সোনু সরকার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ওই গৃহবধূর বাবার দাবি শুধুমাত্র পনের জন্য শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই গলায় দড়ি দিয়েছে মায়া। তিনি পুকুরিয়া থানায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ময়না তদন্তের জন্য মায়ার মৃতদেহ মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷