বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান): মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘেরাও ও হেনস্থার অভিযোগে দেবাঞ্জনের উপর হামলার ঘটনা ঘিরে আলোড়িত বর্ধমান শহর। বুধবার রাতে এই হামলায় দেবাঞ্জন যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তার ভিত্তিতে নয় জনকে গ্রেফতার করা হল। ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে।

দেবাঞ্জনের অভিযোগ, হামলাকারীরা বিজেপির কর্মী-সমর্থক। তবে জেলা বিজেপি সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার রাতে বর্ধমানের আলিশা বাসস্ট্যান্ডে হামলা করা হয় দেবাঞ্জন বল্লভ এবং তার বান্ধবীকে। বাড়ি বর্ধমান শহরে।

দেবাঞ্জন বল্লভ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কলকাতা যাওয়ার জন্য বান্ধবীকে নিয়ে র্ধমানের আলিশা বাসস্ট্যান্ডে বাস ধরার সময় একদল বিজেপি সমর্থক ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিল চড় ঘুষি মারা হয় দুজনকেই। দেবাঞ্জন আরও জানিয়েছে, একজন বিজেপির নেতা এসে হুমকি দিয়ে যায় বাবুল সুপ্রিয়কে মারার জন্য তাকে ছাড়া হবে না। রাতেই বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করে দেবাঞ্জন।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে সংঘ পরিবারের ছাত্র শাখা এবিভিপির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ঘেরাও হয়ে থাকেন। তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় বাম সমর্থক ছাত্র-ছাত্রীরা। সেই সময় ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নামে অতি বাম সংগঠনের সক্রিয় কর্মী দেবাঞ্জন বাবুল সুপ্রিয়কে নিগৃহীত করেন বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি এমন হয় যে,রাজ্যপাল গিয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করেন। তারই মাঝে যাদবপুর ক্যাম্পাসে এসএফআই ইউনিয়ন ভাঙচুর ও আগুন ধরায় বিজেপি সমর্থকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রবল আলোড়ন ছড়ায়।

যদিও দেবাঞ্জন জানিয়েছেন, তিনি আক্রমণ করেননি। যা হয়েছিল তা আত্মরক্ষার স্বার্থে। পরিকল্পনা করে মন্ত্রীকে আক্রমণ করা হয়নি। এদিকে বর্ধমানে তার মা সংবাদ মাধ্যমে মন্ত্রী বাবুল কে অনুরোধ করেন ছেলের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নিতে। বাবুলও সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন- চিন্তা না করতে।

এসবের পরেই বর্ধমানে দেবাঞ্জনের উপর হামলা ঘিরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত। দেবাঞ্জনের, অভিযোগ সেই ঘটনার জেরেই তাকে মারধর করে বিজেপি সমর্থকরা। অভিযুক্তদের নাম জানতে না পারলেও হামলাকারীরা যে বিজেপি এবং এবিভিপি-র কর্মী-সমর্থক তা তাদের কর্মকান্ড দেখে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেবাঞ্জন।