স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজনীতিতে মুকুল রায়ের সঙ্গে সব্যসাচী দত্তর সম্পর্ক দাদা-ভাই-এর৷ সেই ভাইয়ের ‘দুঃসময়’-এ পাশে দাঁড়ালেন বড় দাদা৷ রবিবার সকালে তৃণমূলে সব্যসাচী দত্তর ডানা ছাঁটার পরই রাতেই তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন বিজেপির স্ট্র্যাটেজিস্ট নেতা মুকুল রায়৷ পরে এটাকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মুকুল রায় দাবি করলেও রাজনৈতিক মহল সেই দাবি মানতে নারাজ৷ কয়েকদিনের মধ্যেই সব্যসাচীর গায়ে গেরুয়া নামাবলী দেখা যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন৷

এদিন সকালে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম৷ সেই বৈঠকের পর সব্যসাচী দত্তের জায়গায় মেয়র পদের দায়িত্বে আপাতত বহাল করা হয়েছে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, ৩৬ জন কাউন্সিলরই সব্যসাচী দত্তের বিপক্ষে লিখিত বয়ানে সই করেছেন। সেই বয়ানে ছিল, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তে সবাই সহমত হবেন। সবাই দলনেত্রীর সঙ্গে।”  শোনা যাচ্ছে, আগাম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১০ তারিখে পুরবোর্ডের মিটিং রয়েছে। সেই মিটিংয়েই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা বলে মনে করা

এরপরই সব্যসাচীর ‘সমর্থনে’ মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। শুধু মুখ খোলাই নয়, বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মুকুল৷ তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়। যে কেউ চাইলেই সরিয়ে দিতে পারবে না। লোক বলছে, মেয়র ভালো কাজ করছেন। বিধায়ক ভালো কাজ করছেন না। তাই ভোটে বিধায়ককে হারিয়ে দিয়েছে মানুষ।” এরপরই ইঙ্গিতপূর্ণ হয়ে যায় মুকুল রায়ের বক্তব্য। মুকুল রায় বলেন,”বিগত লোকসভা নির্বাচনে সব্যসাচী আমাদের পক্ষে ভালো ছিল।”

লোকসভা ভোটের ফল বেরোতে দেখা যায় নিউটাউন-রাজারহাট থেকে ২৩,৬৪৩ ভোটে তৃনমূল লিড দিয়েছে। কিন্তু লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধাননগর বা সল্টলেক থেকে প্রায় আঠারো হাজার ভোটে হেরেছে তৃণমূল। এখন বিধাননগর পৌরনিগমের ৪১টি ওয়ার্ড, তার মধ্যে বিধাননগরে বা সল্টলেকে ১৪টা পরে। সেই ১৪টার মধ্যে ১৩টা তে হেরেছে তৃণমূল। মাত্র একটাতে জিতেছে।

তারপরই রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ সল্টলেকে বিএফ ১৪১ ব্লকে যান মুকুল৷ সব্যসাচী-মুকুলকে এদিন ফের খোশ মেজাজে দেখা গেল৷ এদিন মুকুল রায় বলেন, “আমি ওর পারিবারিক বন্ধু৷ ওর বড় দাদা৷ ওকে পরামর্শ দিতে এসেছিলাম৷ একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করলাম৷”

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV