নয়াদিল্লি-কাঠমান্ডু:  ভারতের সঙ্গে ক্রমশ সংঘাতের রাস্তায় নেপাল। গত কয়েকদিন ধরে ক্রমশ ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটছে নেপাল সরকার। কখনও উত্তরাখন্ডে ভারতের রাস্তা তৈরিতে বাধা আবার কখনও বিহারে রাস্তা তৈরিতে বাধা দিচ্ছে নেপাল সরকার। এই পরিস্থিতিতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেপাল সরকারের।

নেপাল সরকারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নেপাল সরকার এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম একতরফা ভাবে প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের বিষয়ে খবর করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ সে দেশের।

গত কয়েকদিন ধরেই চিনের সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি শিরোনামে উঠে এসেছে ভারত-নেপাল বিরোধ। নেপালের মানচিত্রে ভারতের একাধিক জায়গাকে দেখানো হয়েছে। আর তা দেখানোর পর থেকেই ভারত এবং নেপালের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যার জেরে খোদ নেপালে নিজের দলেরই বিরোধের মুখে পড়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই খবরগুলি সামনে আসার পরেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলিকে নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিল নেপাল।

নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র এবং প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী নারায়ন কাজি শ্রেষ্ঠা এদিনের নেপালের সংবাদমাধ্যমে বলেন, নেপালের সরকার এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে  ভিত্তিহীন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি। যা সব সীমা লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি তাঁর। শ্রেষ্ঠার কথায়, এই সমস্ত বিষয় দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিৎ।

সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের এক কেবল অপারেটর জানিয়েছেন, তাঁদের সমস্ত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম না দেখানোর জন্যে বলা হয়েছে। আর সেই নির্দেশ আসার পরেই আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নেপালের মাটিতে সমস্ত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কেবল অপারেটর।

ভারতের সমস্ত চ্যানেল নেপালে বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে এখনও যদিও ভারতের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে সংঘাত বাড়ছে নেপালের। মনে করা হচ্ছে এর পিছনে রয়েছে চিন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক সে দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের। তাঁর অঙ্গুলি হেলনেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছে বলে দাবি। সম্প্রতি ভারতে রাস্তা তৈরির কাজে বাধা দিচ্ছে নেপাল। এমন অভিযোগ সাম্প্রতিককালে আগেও একবার উঠেছে। ফের একবার এরকনই অভিযোগ উঠেছে বিহারে।

বিহার প্রশাসনের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, সীমান্তের কাছে একটি রাস্তা সারানোর কাজ চলছে। আর তা নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে নেপাল। নেপালের এমন ব্যবহারে রীতিমত চমকে গিয়েছে বিহার প্রশাসন।

বিহারে সীতামারি-ভিটামোর রোডের কাজ চলছিল। বিহারের সীতামারি জেলায় অবস্থিত ওই রাস্তা। সেই কাজ আচমকা থামিয়ে দিতে বলে নেপাল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিকারিক জানিয়েছেন, সীমান্তের কাছাকাছি ওই রাস্তা। সেই রাস্তা চওড়া করতে আপত্তি জানিয়েছে নেপাল। বিহারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে এই সমস্যা সমাধানের আর্জি জানানো হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ