কলকাতা: প্রবল শক্তি নিয়ে গঙ্গাসাগরে ঢুকে পড়ল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শুরু হয়ে গিয়েছে তাণ্ডবলীলা। ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। প্রবল ঝড়ে ইতিমধ্যে সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়ি-দোকান ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি সেখানে গাছও ভেঙে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মতো, প্রায় ঘন্টাখানেক সেখানে ধ্বংসলীলা চালাবে সুপার সাইক্লোন বুলবুল। এরপর সেটি ধীরে ধীরে আরও স্থলভাবে প্রবেশ করবে বলে জানা যাচ্ছে। আর তখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই মনেই করছে প্রশাসনিক আধিকারিকরা। যদিও প্রশাসনের তরফে সবরকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যে ব্যবস্থা করা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তৈরি রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে। তান্ডব কিছুটা শান্ত হলেই তাঁরা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

জানা যাচ্ছে এই মুহূর্তে ফ্রেজারগঞ্জে অবস্থান করছে অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

শুধু তাই নয়, যে কোনও পরিস্থিতির জন্যে তৈরি রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। বিশাখাপত্তনম থেকে তিনটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। এমনটাই এন্ডিয়ান নেভির তরফে জানানো হয়েছে। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে যাতে খুব দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু করতে পারে সে জন্যে এই জাহাজগুলিকে প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। এছাড়াও ১০ জন চিকিৎসকের একটি দল এবং ডাইভিং দলকে প্রস্তুত রাখা রয়েছে। এছাড়াও নাভাল এয়ারক্রাফ্টকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আকাশ পথে যাতে উদ্ধার কাজ চালানো সম্ভব হয় সেজন্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীর এই প্রস্তুতি।

ইতিমধ্যে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে নবান্নে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনে খোলা কন্ট্রোল রুমে এই মুহূর্তে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বসেই গোটা পরিস্থিতির উপর তিনি নজর রাখবেন বলে জানা যাচ্ছে।

শুধু কন্ট্রোল রুমে বসে থাকা নয়, ইতিমধ্যে রাজ্যবাসীকে বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে লিখেছেন, কোনওভাবে আতঙ্কিত হবেন না। শান্ত থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন। প্রশাসন বিপর্যয় মোকাবিলায় একেবারে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। মমতা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে আরও লিখেছেন, রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ, অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।