নয়াদিল্লি : আগ্রাসনের নয়া নীতিতে চলছে চিন। ভারতের পর এবার ভুটানের দিকে নজর দিয়েছে বেজিং। ভুটানের বেশ কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করেছে চিন। গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি কাউন্সিলের বৈঠকে সাকটেঙ্গ ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারি এলাকাকে বিতর্কিত বলে দাবি করেছে বেজিং। যা আদপে ভুটান সীমান্তের অন্তর্গত।

বাস্তবে, এই এলাকা নিয়ে অতীতে কখনই কোনও বিতর্ক হয়নি। যদিও এই এলাকায় চিন ও ভুটানের সীমানা নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট নয়। চিনের এই দাবিকে কড়া ভাষায় খারিজ করেছে থিম্পু। সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই সাকটেঙ্গ ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারি এলাকা একেবারেই ভুটানের নিজস্ব সীমানার মধ্যে পড়ছে। এই বিষয়ে কোথাও কোনও দ্বিমত নেই।

উল্লেখযোগ্য বিষয় এর আগে কখনও এই ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারি নিয়ে আলোচনা হয়নি। এই প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উঠে এল ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারির প্রসঙ্গ। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে সুবিধাবাদী চিন। যদিও চিনের এই দাবির কড়া বিরোধিতা করেছে ভুটান।

উল্লেখ্য গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতের আইএএস অফিসার অপর্ণা সুব্রমণি। দোসরা জুন প্রজেক্ট নিয়ে প্রসঙ্গ ওঠে কাউন্সিলের বৈঠকে। চিনের কাউন্সিল সদস্য ঝোংঝিন ওয়াং ভুটানের সীমানায় থাকা এই স্যানচুয়ারি নিয়ে আপত্তি তোলেন। সেখানেই চিন দাবি জানায়, তাদের এই প্রকল্প আপত্তি রয়েছে, কারণ এটি বিতর্কিত এলাকায় অবস্থিত।

তবে পরের দিনই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে চিনা প্রতিনিধি জানান, তাঁরা এই প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। যেহেতু এটি চিন-ভুটান সীমান্তের বিতর্কিত এলাকায় রয়েছে, তাই চিন কোনওভাবেই চায় না প্রকল্পটি হোক। কাউন্সিলের এই প্রকল্পের ব্যাপারে মতামত জানাতে অসম্মত হয় চিন। তবে চিনের এই দাবি পুরোপুরি অগ্রাহ্য ও অস্বীকার করছে ভুটান। তাদের দাবি এই সাকটেঙ্গ ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারি ভুটানের অন্তর্গত।

এব্যাপারে চিনের কথা বলার কোনও জায়গা নেই। শুধু ভুটানই নয়। চিনের এই দখলদারি মনোভাব ভারতের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে। গালওয়ান, প্যাংগং, উত্তর সিকিম। তালিকায় পরপর নামের পাশে এবার বোধহয় নয়া নাম জুড়তে চলেছে। নয়া পথ ধরে লাদাখের আরেক পাশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে চিন সেনা।

অন্তত উপগ্রহ চিত্র তাই বলছে। নতুন চিত্র বেশ উদ্বেগ তৈরি করেছে। দৌলত বেগ ওলডি বা ডিবিও ও ডেপসাং সেক্টরে চিনা সেনার গতিবিধি নজরে এসেছে ওই ছবিতে। জুন মাসেই এই এলাকায় চিনের বেস ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি গাড়িও নজরে এসেছে।

ডেপসাং সেক্টরে চিনা সেনার আনাগোনা হতে পারে মে মাসেই এই খবর পেয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেখানে নজরদারিও চলছিল। উল্লেখ্য ২০১৩ সালে প্রথম এই সেক্টরে চিনা সেনার অনুপ্রবেশ ঘটে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV