কলকাতা: করোনা মোকাবিলায় ফের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার৷ বৃহস্পতিবার ১২ জন চিকিৎসকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

মারণ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷ একাধিক হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা এবং আইসোলেশন বেড বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন আগেই৷ তারপর কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে শুধুমাত্র করোনা চিকিৎসার জন্য বেছে নিয়ে দেশের মধ্যেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷

করোনা সংক্রমণ রুখতে সোমবার বিকেল পাঁচ থেকে রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তারপর মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ তবে এই লকডাউনের মধ্যেই রাজ্যে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে একজনের শরীরের COVID19 ভাইরাস মিলেছে৷ বৃহস্পতিবারই নয়াবাদের ৬৬ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়ের শরীরে মিলল নোভেল করোনাভাইরাস৷ এর ফলে রাজ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৷ আক্রান্তদের  মধ্যে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন৷

করোনা মোকাবিলায় রাজ্যকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ১২ জন বিশেষ চিকিৎসক নিয়ে এক বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন মমতা৷ এই কমিটি করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেবে৷ মারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তাও এই কমিটির কাছে জানতে চান মমতা৷ এছাড়াও করোনা টেস্টের কিট সংক্রান্ত বিষয় এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনও বিষয়ে রাজ্য সরকারকে মতামত জানাবে এই কমিটি৷

করোনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি গতকাল রাজ্যের ছ’টি হাসপাতালে ঘুরে পরিস্থিত সরজমিনে খতিয়ে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের দ্রুত করোনা টেস্টের ব্যাপারে আরও গতি আনতে এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে৷ কোভিড-১৯ ভাইরাস আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেহ থেকে লালারস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হয় ‘ভাইরাল ট্রান্সপোর্ট মিডিয়া’ নামক একটি কিটের৷ এবার সেই কিটটি-ই তৈরি করবে রাজ্য সরকার৷ নোভেল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের নমুনা দ্রুত পরীক্ষার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যভবন৷

স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে করোনা টেস্টের জন্য লালারস সংগ্রহের এই কিট তৈরি করা হবে বলে স্বাস্থ্যভবন সুত্রে জানা গিয়েছে৷ ইতিমধ্যেই সেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে৷ স্বাস্থ্যভবনের তরফে জানা গিয়েছে, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ‘ভাইরাল ট্রান্সপোর্ট মিডিয়া’ তৈরি করা হলে দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে৷