নয়াদিল্লি: লাইন অফ কন্ট্রোলে সেনা হটানো নিয়ে তরজা তুঙ্গে উঠেছে অনেকদিন। তবে ক্রমশ ভারতের ভূখন্ডে নিজেদের মাটি শক্ত করতে চাইছিল চিন। নানা বিতর্কের মাঝে চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে টানা ২ ঘণ্টা ভিডিও কলে কথা বলেছেন। ঠিক তারপরেই সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজিং।

সরকারি সূত্রের খবর, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভাল চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াইয়ের মধ্যে দু’ঘণ্টার টানা বক্তব্যের আদানপ্রদান হয়েছে রবিবার।

সূত্রের খবর, টানা এই ভিডিও কলিংয়ে আলোচনায় সীমান্ত সংক্রান্ত নানাদিক উঠে এসেছে। ভারত-চিন সংঘাতে সারাবিশ্ব মুখ খুলেছে তবে চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তাই শেষ পর্যন্ত ভারতের বড় জয় হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বার্তালাপের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে ভারত।

দু-তিন কিলোমিটার রাস্তা পিছু হটা নিয়ে বিবাদ, ভারত-চিন মিলিটারি স্তরের আলোচনায় যা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। লাইন অফ কন্ট্রোলে পিপি-১৪ থেকে শেষ অবধি সবকটি পেট্রোল পয়েন্ট ভারতের, তেমনটাই দাবি জানিয়েছে ভারত। তবে ক্যাম্প তৈরি করেনি ভারত কারণ সেভাবেই চুক্তিবদ্ধ দুই দেশ। তবে যেহেতু চিনের তরফে ওখানেই তাঁবু খাটিয়েছে তাই নিজেদের রক্ষা করতে ভারতীয় সেনার তরফেও একই কাজ করা হয়েছিল।

এরপর সোমবারই, লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার খবর এসেছে। চিনের সেনাবাহিনী সরে গিয়েছে বলে আগেই খবর এসেছে। এবার সেই কথা স্বীকার করেছে চিন।

চিনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের বিদেশমন্ত্রী ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘গত ৩০ জুন কমান্ডার লেভেলের তৃতীয় বৈঠকের পর সরে গিয়েছে দুই দেশের সেনা।’

সোমবার সকালেই জানা যায়, গত ১৫ জুন যে জায়গায় সংঘাত হয়েছিল, সেখান থেকে অন্তত এক কিলোমিটার সরে গিয়েছে চিনের সেনা। এই খনবর প্রকাশ্যে আসার পরই এই প্রতিক্রিয়া দিলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী।

গালওয়ানে শিথিল হতে শুরু করেছে ভারত ও চিন সেনা সংঘর্ষ। শেষ ৪৮ ঘণ্টায় কূটনৈতিক, মিলিটারি এবং উচ্চপর্যায়ের টানা আলোচনার ভিত্তিতেই তা সম্ভব হয়েছে বলেই।

সীমান্ত সংঘর্ষের পরে কিছুদিন আগেই লাদাখের নিমু সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সীমান্তে দাঁড়িয়ে চিনের নাম না করেই পড়শি দেশকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত ও সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে। ভারতীয় সেনাদের জন্য উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র আমদানি করা হচ্ছে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেহ ও লাদাখ পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে সেনাবাহিনী ও ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের মনোবল বাড়ান। দেশের জন্য যে ২০ জওয়ান শহিদ হয়েছেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।