নয়াদিল্লি: বিজেপির বিতর্কিত নেতা কপিল মিশ্রের ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা । সোমবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন কপিল মিশ্র। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে তাঁর Y+ নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়ে গিয়েছে।

এদিকে, দিল্লি নির্বাচনের সময় উস্কানি মূলক মন্তব্যের জেরে বিরোধীদের রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর তো দূরের কথা, কপিল মিশ্রকে এবার ‘ওয়াই-প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা এই বিজেপি নেতাকে ‘Y+’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা সশস্ত্র বাহিনী।

সূত্রের খবর, বিরোধী শিবির গুলির কাছ থেকে বেশ কিছুদিন ধরে প্রাণ নাশের হুমকি পাচ্ছিলেন কপিল মিশ্র। সেই আশঙ্কার কথা জানিয়ে দিল্লি পুলিশকে তাঁর নিরাপত্তা ‘Y’ থেকে ‘Y+’ করার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে বিজেপির এই বিতর্কিত নেতার নিরাপত্তা বলয় বাড়ানো হয়েছে বলে একটি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর। তবে সব থেকে হাস্যকর বিষয়টি হল যে, কপিল মিশ্রের এই নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি খোদ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকই জানে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই ধরণের কোনও সরকারি সিদ্ধান্তের কথা দিল্লি পুলিশের তরফে তাদের জানানো হয়নি। তবে এটি স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত কিনা তা নিয়েও ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে বিজেপির অন্দরে।

এদিকে দিল্লি নির্বাচনের সময় উত্তর দিল্লিতে সিএএ বিরোধীদের বিরুদ্ধে উস্কানি মূলক মন্তব্য করেছিলেন এই বিজেপি নেতা। সেই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করে কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের হয়নি বলে গত শুক্রবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জানতে চান সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা।

প্রসঙ্গত, দিল্লি হিংসার কয়েকদিন আগে কপিল মিশ্রর একটি উস্কানি মূলক বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যাতে দেখা গিয়েছে, পুলিশের সামনেই দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর হুমকি দিচ্ছেন তিনি। তা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি দিল্লি পুলিশ। এরপর আদালতেও এই আচরণের জন্য ভর্ৎসিত হতে হয় দিল্লি পুলিশকে। কেন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়নি, তা জানতে চায় আদালত। এজলাস চলাকালীন আদালতেই বাজানো হয় তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও। পুলিশকে দ্রুত কপিল-সহ চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। কিন্তু, তারপরও কপিলের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়নি। উলটে তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়াও সক্রিয় সমাজকর্মী হর্ষ মান্দার বিজেপির ৩ বিতর্কিত নেতা যারা দিল্লি নির্বাচনের সময় উস্কানি মূলক বার্তা ছড়িয়ে ছিলেন, সেই কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর এবং প্রভেশ ভার্মার বিরুদ্ধে দিল্লি কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প