ঢাকা: সপরিবারে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট তাঁকে খুনের সঙ্গে জড়িত মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত পলাতক ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) মাজেদ অবশেষে ধৃত।

মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর থেকে এই মোস্ট ওয়ান্টেড খুনিকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও জঙ্গি দমন শাখা সিটিটিসি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ এই বিষয়ে একটি কূটনৈতিক উত্তর দিয়েছে। বলা হয়েছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে পলাতক আসামিদের অন্যতম ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে তাকে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছিল।

এখানেই প্রশ্ন ওই দেশ কোনটি ? এর উত্তর দেওয়া হয়নি।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কে সপরিবারে খুনের পরেই মূল আসামীরা পলাতক হয়।তারা বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে রয়েছে। কয়েক জনের বিচারের পর ফাঁসি হয়েছে। কিন্তু আবদুল মাজেদ কোথায় ছিল সেটা অজ্ঞাত বাংলাদেশ সরকারের কাছে।

মনে করা হয় ১৯৭৫ সালেই মাজেদ পালিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে। অনেকটা সময় জাল পরিচয় নিয়ে কলকাতায় ছিল বলেও ধারণা ঢাকা পুলিশের। তবে তার বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।

একদিকে প্রবল করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ঢাকা পুরো অবরুদ্ধ। আসা যাওয়া বন্ধ। তারই মাঝে খবর আসে বরখাস্ত হওয়া সেনা অফিসার আবদুল মাজেদ মিরপুরে রয়েছে।

টানা ৪৫ বছর সে আত্মগোপনে। মনে করা হচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে গোপন ডেরা থেকে বেরোতেই গোয়েন্দা পুলিশের জালে পড়ে মাজেদ।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক ছয় খুনির মধ্যে ক্যাপ্টেন মাজেদ ছিলেন অন্যতম। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়।

এক নজরে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা (মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত):

১২ খুনির মধ্যে পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তারা হল- কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) একে বজলুল হুদা এবং মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন (আর্টিলারি)। বাকি সাতজনের মধ্যে আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবোয়েতে মারা যায়।

বাকি পলাতক খুনিরা:

লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান।
অভিযোগ গ্রেফতার বা প্রত্যর্পণ ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পাকিস্তান, লিবিয়া সহ আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তারা লুকিয়ে।