নয়াদিল্লি: করোনা সংক্রমণ রুখতে সারা দেশে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ মারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লকডাউনই হাতিয়ার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা৷ কিন্তু শনিবার দিল্লির আনন্দ বিহার বাস টার্মিনালে যে ছবি ধরা পড়েছে তা অত্যন্ত আশঙ্কার৷

এঁদের অধিকাংশই শ্রমিক৷ যাঁরা লকডাউনে আটকে পড়েছেন৷ এঁরা নিজেদের শহর বা গ্রামে ফিরতে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লির আনন্দ বিহার বাস টার্মিনালে আসতে থাকেন৷ কিন্তু শুকবারই কেন্দ্রের তরফে প্রতিটি রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের তাদের রাজ্যে না-ফেরাতে৷ কারণে এতে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল হতে পারে৷

দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই মর্মে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ ভিন রাজ্যে আটকে পড়া ব্যক্তি বা কাজে গিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে ফেরাতে পারবে না রাজ্য সরকার গুলি৷ করোনার সংক্রমণ রুখতে এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে৷ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে চিঠি লিখে স্পষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

ওই নির্দেশিকায় কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, যে রাজ্যগুলিতে ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন, তাঁদের খাওয়া ও থাকার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার গুলিকেই৷ কিন্তু শনিবার খোদ দিল্লিতেই সেই নির্দেশ মানা হল না৷ এখানে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে৷ শুক্রবার রাত থেকে দিল্লি-গাজিয়াবাদ বর্ডার থেকেই হাাজার শ্রমিক বাড়ি ফেরার উদ্যেশে তাঁদের পরিবার নিয়ে রওনা দেয়৷ শনিবার এই সংখ্যাটা কয়েক হাজারে পৌঁছয়৷

এদিন সকাল থেকেই তারা নিজ নিজ বাড়ি ফেরার বাসের খোঁজ করতে থাকে৷ এর ফলে যে আনন্দ বিহার বাস টার্মিনালে যে বিশাল জমায়েত হয় তাতে কোনও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এর নিয়মের ধ্বজা উড়ে যায়৷ তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যথেষ্ট পুলিশ ছিল না৷ এই শ্রমিকদের বক্তব্য, আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ সুতরাং বসে বসে খাওয়ার জন্য আমাদের হাতে যথেষ্ট টাকা-পয়সা নেই৷ এখানে আমরা থাকলে না-খেয়ে মরে যাব৷ তাই আমরা যেভাবেই হোক বাড়ি ফিরতে চাই৷

বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিন রাজ্যে আটকে পড়া বাঙালি শ্রমিকদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ ১৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন৷ সেখানে আটকে শ্রমিকদের থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা৷ করোনা আবহে লকডাউনের মধ্যে ভয়াবহ এই দৃশ্যের ভিডিও টুইটারে পোস্ট করে কেন্দ্র সরকারকে দুষেছেন রাহুল গান্ধী৷