নয়াদিল্লি: দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ২০১৫ সালের তুলনায় বিজেপি ভালো ফল করলেও সাফল্য আসেনি। ভালো ফলাফল নয়া হওয়ার জন্য দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন, তেমনটাই জানা গিয়েছে সুত্র মারফত। তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তিওয়ারিকে সভাপতিত্ব ছাড়তে বারণ করেছেন বলেই জানা গিয়েছে।

৭০ আসনের লড়াইয়ে মাত্র ৮টি আসন পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি যেখানে আম আদমি পার্টি ৬২ আসনে জয়লাভ করেছে। হ্যাটট্রিক করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ ভোটগ্রহণের পরেই বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানা যায় যে আপ ফের ক্ষমতায় ফিরছে। যদিও মনোজ তিওয়ারি জানিয়েছিলেন বিজেপি দিল্লিতে ক্ষমতায় আসছে। শুধু তাই নয় ফলাফলের দিন সকালেও তিনি বলেছেন ৫৫ আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরবে।

বুধবার, বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা দলের সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দলের ভরাডুবি অবস্থার কাটাচেরা বিশ্লেষণ করতেই বৈঠক বলে জানয়া গিয়েছে।

মনোজ তিওয়ারির পাশাপাশি দলের পরাজয় মেনে নিয়েছেন দিল্লির বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরিও। তবে দলের এহেন পরাজয়ের দায় দলের কর্মীদের উপরেই চাপিয়েছেন রমেশ। তাঁর দাবি, বিজেপির উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা। পাশাপাশি তাঁর মতে, বিদ্যুৎ বিনামূল্য করে দেওয়ার যে নীতি আপ নিয়েছিল, তাতেই গরিবদের পাশে পেয়ে গিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি আরও বলেন, ভোটের কয়েকমাস আগে যেভাবে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার যে ঘোষণাকরেছেন কেজরিওয়াল তা একেবারে আপ সরকারের মাস্টারস্ট্রোক ছিল।

শুধু তাই নয়, আপের এই প্রকল্প গরিবদের ওপরে ভীষণ প্রভাব ফেলেছে বলেও দাবি তাঁর। বিজেপি সাংসদের মতে, আমাদের কর্মীরা যদি তৃণমূল স্তরে গিয়ে মানুষদের সঙ্গে মিশে আমাদের প্রকল্পগুলির ব্যাপারে বলতে পারতেন, তা হলে আমাদের ফলও ভালো হত।

প্রসঙ্গত, গত বছর দুশো বা তার কম ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করলে সাধারণ মানুষকে আর তার দাম দিতে হবে না বলে ঘোষণা করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কেজরি সরকারের এই প্রকল্প দিল্লির মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শুধু দিল্লিতেই এই প্রকল্প আটকে থাকা নয়, কেজরির পথেই এবার বিদ্যুৎে সুবিধা দেবে মমতা সরকারও। মাসে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বাংলাতেই বিদ্যুৎ মকুব। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন বাংলাতে। আর তাই কেজরির পথে বাংলাতেও এই সুবিধা দিয়ে মানুষের মন কাড়ার চেষ্টা তৃণমূল সরকারের।