নয়াদিল্লি: ভারতে করোনা ভাইরাসের এপিক সেন্টার হল দিল্লির নিজামউদ্দিনে জমায়েত৷ আর তার ফলেই গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৮০ জনের জনের শরীরে এই মারণ ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে৷ এই মুহূর্তে  দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৬১১৷ মৃত বেড়ে ৪৭৷ সবেচেয়ে বেশি ১০ জন মারা গিয়েছে মহারাষ্ট্রে৷ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনার শিকার ৩ জন৷

দেশে একদিনে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা৷ সোমবারও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪৫০৷ কিন্তু নিজামউদ্দিনের জমায়েতে খবর সামনে আসার পর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা৷ এক দিনে প্রায় আক্রান্তের সংখ্যা তিনশো ছুঁই ছুঁই৷

মার্চের মাঝামাঝি দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদে একটি ধর্মীয় জমায়েত উপলক্ষে জড়ো হয়েছে প্রায় তিন হাজার জন৷ এদের মধ্যে মধ্যে অন্তত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে৷ এই নিমামউদ্দিনে জমায়েতের জেরেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তেলঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক এবং গুজরাট-সহ কার্যত প্রতিটি রাজ্যে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বলে জানা গিয়েছেন নিজামউদ্দিনের জমায়েতরাা।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৭৩ জন নিজামউদ্দিন মসজিদের সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে৷ তবে তাঁরা বাড়িতে ফিরে আসার পর যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১১৬ জন। এদের সবাইকেই কোয়ারান্টাইনে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব। সবারই করোনা পরীক্ষা করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি৷ নিজামউদ্দিনের জমায়েতের ফলে রাজ্যেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৩৩ পৌঁছে গিয়েছে৷

মঙ্গলবার টুইট করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা (দিল্লির তবলিঘি জামাত) এই জমায়েতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাঁদের কোভিড পরীক্ষা করানো হবে এবং ১৪ দিনের জন্য তাঁদের আবশ্যিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে। এ দিন নিজামুদ্দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নবান্ন থেকে বেরিয়ে লালবাজারে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পুলিশ কমিশনার-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকেই নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর ভবানী ভবনেও যান মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, গুজরাট, জম্মু ও কাশ্মীর ও বিহার-সহ অন্যান্য জায়গাগুলিতে সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে৷ যার ফলে একদিনে সংখ্যা এক লাফে ১৬০০ ছাপিয়ে গিয়েছে৷ গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার রাত থেকে এ পর্যন্ত ২৮২ টিরও বেশি পজিটিভ কেস পাওয়া গিয়েছে৷ গত রাতে তেলেঙ্গানায় ৬ জন এবং কর্নাটকে এক জনের মৃত্যুর পর এদিন আরও পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে৷ তার মধ্যে পাঞ্জাবের দু’টি এবং মহারাষ্ট্র, কেরল এবং মধ্যপ্রদেশে একটি৷