নয়াদিল্লি: করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সারা দেশ জুড়ে দু’মাসের বেশি লকডাউনে ভেঙে পড়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থা৷ এবার তার মেরামত করতে উদ্যোগী হল কেন্দ্র সরকার৷ মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) এবং কৃষির সাহায্যের জন্য আগেই ২০ হাজার কোটি টাকার ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন৷ সোমবার তাতে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷

এদিন দুপুরে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাও অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটিকে নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বিষয়ে বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর, নিতিন গডকরী ও নরেন্দ্র তোমর। সেখানেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়৷

মন্ত্রিসভার ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজ অনুমোদনের ফলে দু’ লক্ষ এমএসএমই ইউনিট উপকৃত হবে বলে জানানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ এছাড়াও রাস্তার বিক্রেতাদের জন্য সরকার ৫০,০০০ কোটি টাকার প্যাকেজও অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছেন জাভেড়েকর। এই প্যাকেজের আওতায় হকার, মোচড় এবং সেলুন-সহ রাস্তার বিক্রেতারা ১০ হাজার টাকার ঋণ পেতে পারে বলেও জানান তিনি৷ এই প্রকল্প থেকে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ বিক্রেতারা উপকৃত হবেন বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও প্যাকেজের কথাও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক ওয়েলফেয়ার মন্ত্রী নরেন্দ্র তোমার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ‘কৃষকদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য ১৪টি খরিফ ফসলের ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের (এমএসপি) ৫০%-৮৩% বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ কৃষি উত্পাদক বিপণন কমিটি (এপিএমসি) আইনের পরিবর্তে নতুন আইন আনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই আইন কার্যকর করার জন্য একটি অধ্যাদেশ আনা হতে পারে। এর ফলে কৃষকরা তাদের পণ্য বিক্রির জন্য সহজে আন্তঃরাজ্য ভ্রমণ করতে পারবেন৷

এদিনের বৈঠকে যা ঘোষণা করা হয়েছে, একনজরে সেগুলি হল:

১) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দান৷

২)ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ।

৩) আর্থিক সঙ্কটে জেরবার ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প লাভবান হবে।

৪) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।

৫) ১৪টি খারিফ শস্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০ থেকে ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত৷

৬) দেড় গুণ বেশি সহায়ক মূল্য পাবেন কৃষকরা।

৭) চলতি অর্থিক বছরে ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৫৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত৷

৮) ঋণ শোধ করার জন্য আরও সময় পাবেন কৃষকরা।

৯) হকারদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহজ ঋণ।

১০) সংস্থার বার্ষিক লেনদেন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছোট শিল্পের তালিকাভুক্ত৷ আর বার্ষিক লেনদেন ২৫০ কোটি হলে তা হবে মাঝারি শিল্প৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প