রাজকোট: মরশুমের মতোই রঞ্জি ট্রফির ফাইনালের প্রথম দিন দুরন্ত বোলিং উপহার দিল বাংলার বোলাররা৷ সোমবার ম্যাচের প্রথম দিনের শেষে ২০৬ রানের বিনিময়ে সৌরাষ্ট্রের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানা বাংলার বোলাররা৷ ব্যাক্তিগত পাঁচ রানে আহত হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন চেতেশ্বর পূজারা৷ দিনের শেষে চেতন সাকারিয়াকে তুলে নিয়ে বাংলাকে ম্যাচ ফেরান আকাশ দীপ৷

রাজকোটের ব্যাটিং সহায়ক পিচে ফাইনাের প্রথম সেশনে বাংলার বোলাররা ব্যর্থ হলেও দিনের শেষে ভালো জায়গায় বাংলা৷ মঙ্গলবার সকালে দ্রুত সৌরাষ্ট্রের ইনিংস ছেঁটে ফেলতে পারলে ৩০ বছর পর বাংলার ফের রঞ্জি জয়ের স্বপ্ন আরও জোরদার হবে৷ টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সৌরাষ্ট্র অধিনায়ক জয়দেব উনাদকট৷ দুই ওপেনার হার্ভিক দেশাই ও অভি বারোতের সাবলীল ব্যাটিংয়ে দিনের প্রথম সেশনে কোনও উইকেট না-হারিয়ে ৭৭ রান তুলেছিল সৌরাষ্ট্র৷ প্রথম সেশনে অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে আস্থা জোগান দুই ওপেনার৷

৩৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে প্রথম লাঞ্চের আগে সৌরাষ্ট্রের কোনও উইকেট তুলতে পারেননি ইশান পোড়েল-মুকেশ কুমাররা৷ কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে অর্থাৎ লাঞ্চের পরই হার্ভিক দেশাইকে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান শাহবাজ আহমেদ৷ ৮২ রানে সৌরাষ্ট্রের ওপেনিং জুটিকে ভাঙতে সক্ষম হয় বাংলা৷ এর কিছুক্ষণের পরই অপর ওপেনার অভি বরোতকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান আকাশ দীপ৷ প্যাভিলিয়নের আগে অবশ্য হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বরোত৷ ১৪২ বলে ছ’টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি৷

চা-বিরতির পর ১৫৫ রানে দু’ উইকেট হারায় সৌরাষ্ট্র৷ কিন্তু চা-বিরতির পরই ভি জাদেজার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাকে ম্যাচ ফেরান আকাশ দীপ৷ ব্যক্তিগত ৫৪ রানে জাদেজার স্টাম্প ছিটকে দেন বাংলার এই পেসার৷এর পর সেলডন জ্যাকসনকে ব্যক্তিগত ১৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান ঈশান পোড়েল৷ ১৮২ রানে চার উইকেট হারায় সৌরাষ্ট্র৷ তারপর ক্রিজে আসেন সদ্য নিউজিল্যাান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলে ফেরা পুজারা৷ কিন্তু মাত্র ২৪ বল খেলেই ডি-হাইড্রেশনের কারণে ক্রিজ ছাড়েন ভারতীয় টেস্ট দলের নম্বর তিন এই ব্যাটসম্যান৷

পুজারা অবসৃত হওয়ার পর ক্রিজে আসেন সেমিফাইনালে গুজরাতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে সাকারিয়া৷ তিনি সফল হওয়ার আগে আকাশের দুরন্ত আউট সুইংএর শিকার হন তিনি৷ স্টাম্পের পিছনে ঋদ্ধিমান সাহার হাাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সাকারিয়া৷ কিন্তু সাকারিয়াকে ফিল্ড আম্পায়ার বাংলার ফিল্ডারদের জোরাল আবেদন সত্ত্বেও আউট দেননি৷ বাংলার রিভিউ নিয়ে সাকারিয়ার উইকেট তুলে নেয়৷ বাংলার হয়ে এদিন সফতম বোলার আকাশ দীপ৷ ১৪.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৪১ রান খরচ করে সৌরাষ্ট্রের তিনটি উইকেট তুলে নেন আকাশ৷ তবে বাংলার সেমিফাইনালের নায়ক মুকেশ কুমার এদিন কোনও উইকেট পাননি৷

৩০ বছর পর বাংলার সামনে রঞ্জি জয়ের হাতছানি৷ সেমিফাইনালে শক্তিশালী কর্নাটককে হারিয়ে ২০০৬-০৭ মরশুমের পর ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন বাংলা৷ যার সিংহভাগ কৃতিত্ব পেসারদের৷ ইডেনে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কর্নাটকের ২০টি উইকেটই তুলে নিয়েছিলেন বংলার পেসাররা৷