ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মঙ্গলবার বিকালে কলকাতায় রোড-শো করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ সাড়ে তিন কিলোমিটার ওই রোড-শো’য়ে কয়েক লক্ষ জনতা কলকাতায় রাস্তায় নামবেন বলে আশা করছে রাজ্য বিজেপি৷ অমিত শাহ ছাড়াও ওই রোড-শো’তে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবে৷

যেসব কেন্দ্রে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, সেই সব কেন্দ্রের প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন৷ বিজেপি সূত্রে যা খবর, ধর্মতলায় শহিদ মিনার প্রঙ্গনে জমায়েত হয়ে কার্যকর্তারা কে সি দাস মোড়ে জমায়েত হবেন৷ ওই জায়গা থেকে রোড-শো কে সি দাস মোড়ে পৌঁছাবে৷ ওই মোড় থেকে রোড-শো এগোবে লেনিন সরণী হয়ে৷ ওয়েলিংটন মোড় থেকে বাঁদিকে বৌবাজার, কলেজ স্ট্রিট, বিধান সরণী হয়ে রোড শো পৌছে যাবে মানিকতলার সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িতে৷

রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ, নির্বাচন ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মুকুল রায় সব শীর্ষনেতারা ওই রোড-শোয়ে থাকবেন৷ উল্লেখ্য, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির তিনটি জনসভা ছিল সোমবার৷ কিন্তু প্রশাসন সাহায্য না করায় বারুইপুরে একটি জনসভা করতে পারেননি অমিত – অভিযোগ উঠেছে৷ তকে সভা না করতে দেওয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অমিত৷ বলেছেন, আমাকে আটকালে কী হবে দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)৷ বিজেপির জয় আটকাতে পারবেন?’’

বিজেপি আগেই জানিয়েছিল, কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রোড-শো হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই ৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ইতিমধ্যেই জানিয়ে রেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় রোড-শো করার জন্য সময় পাবেন না৷ সেক্ষেত্রে বাংলায় ১৭টি নির্বাচনী প্রচার সভা করলেও কলকাতার মাটিতে পা রেখে জনসভা বা রোড-শো কোনটাই করবেন না মোদী৷

তবে প্রধানমন্ত্রীর রোড-শো না হলেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড-শো কলকাতায় যে হবেই তা আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল৷ প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী ৩ এপ্রিল জলপাইগুড়ির কাওয়াখালি এসজেডিএ মাঠে জনসভা দিয়ে শুরু করেছিলেন৷ এরপর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড কলকাতা সভা করেন তিনি৷ ব্রিগেডে হ্যাঙ্গারের নিচে জনসভা করেছিল বিজেপি৷ যা আগে কোনও রাজনৈতিক দল করেনি৷

এরপর, কোচবিহার রাসমেলার মাঠে এপ্রিল ৭ সভা করেন তিনি৷ ২০ এপ্রিল বালুরঘাটের বুনিয়াদপুরে তিনি জনসভা করেন৷ ২৩ এপ্রিল আসানসোলে সভা করেন মোদী৷ ২৪ এপ্রিল ফের বোলপুর এবং রানাঘাটে সভা করেন৷ ২৯ এপ্রিল শ্রীরামপুর এবং জগদ্দলে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ পঞ্চমদফা নির্বাচনের আগে ৬ মে তমলুক এবং ঝাড়গ্রামে সভা করেছেন মোদী৷ এরপরই ৯ মে সভা করেছেন বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায়৷

তবে প্রধানমন্ত্রীর অফিস আরও ৪টি বাড়তি সভা রাজ্যে দিয়েছে – ১৫ মে বসিরহাট এবং ডায়মন্ড হারবার এবং ১৬ মে মথুরাপুর এবং দমদমে সভা করবেন মোদী৷ মোদীর জনসভায় একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা লক্ষ করা গিয়েছে৷ তিনি উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা এবং গুজরাতকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন৷ বিজেপির মনে হয়েছে – দলের প্রচারের প্রধান মুখ মোদী এই পাঁচ রাজ্যেই বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন৷ সেই কারণে ৫০ শতাংশ প্রচার এই পাঁচ রাজ্যেই করেছেন মোদী৷