প্রসেনজিৎ চৌধুরী, বর্ধমান: মঞ্চে ঝাঁঝালো বক্তব্য রাখতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন অগ্নিকন্যা। আর মাথার উপরে অগ্নিদেব সূর্যের রোষ ততই বাড়ছে। গরমে ঘেমে থাকা সমর্থকরা মোবাইলে নিমগ্ন নেত্রীর ভাষণ শুনতে। বারে বারে নেতাদের উদ্বেগ ধরা পড়ছিল।

পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর বর্ধমান শহরের নিঝুম ঘর্মক্লান্ত দুপুরের ছবি এমনই।

ধর্মতলায় তখন ভাষণের প্রায় শেষের দিক-একের পর এক প্রকল্পের নাম নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি প্রকল্পের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন দলের নাম।

উন্নয়নের এই খতিয়ানে তরুণ কর্মীরা প্রাথমিকভাবে উল্লসিত হলেও পোড় খাওয়া নেতারা কিন্তু গম্ভীর হলেন। গুঞ্জন এটা কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সবকিছু। মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখেই তরুণ বিএ পাঠরতা তৃণমূল সমর্থক ছাত্রীর মুখ গম্ভীর। নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি। তবে জানিয়ে দিলেন, এভাবে দল ও সরকারের মিলিয়ে দেওয়াটা ঠিক নয়। বিশেষ করে ২১ জুলাই সমাবেশ থেকে।

মমতা ততক্ষণে গুছিয়ে নিয়েছেন। এবার বলতে শুরু করলেন- তৃণমূল নয় রাজ্য সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প গুচ্ছের কথা। পোড় খাওয়া টিএমসি নেতার মুখ থমথমে ততক্ষণে। জানালেন- এর একটা তো বাম আমলেই তৈরি।

শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান নয়, ভাষণের অন্য অংশেও মমতাকে হোঁচট খেতে হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী রবিবারের সমাবেশ ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সবথেকে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। তাতেই বারবার খেই হারিয়েছেন দলনেত্রী।

নেতা কর্মীদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এমনটা নেত্রীকে দেখা যায়নি আগে। যেভাবে তিনি একাই আগুন ঝরা ভাষণে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন, সেই জোশে ঘাটতি পড়ছে।

লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরাট উত্থান হয়েছে। ধস নেমেছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের নিচু তলায়। বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূল সংঘর্ষ প্রায় নিয়মিত ব্যাপার। তারই মাঝে ২১ জুলাই সমাবেশ টিএমসির কাছে বাড়তি অক্সিজেন।

সেই অক্সিজেন নিতেই যারা ধর্মতলায় যেতে পারেননি, তারা লাইভ অনুষ্ঠান শুনেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ রাজ্যের সর্বত্র একই ছবি। সকাল থেকে দলীয় নেতা কর্মীরা উৎসুক নেত্রীর বার্তা শুনতে।

কিন্তু নেত্রীর ভাষণে টিএমসি কর্মীদের অনেকই যে হতাশ তা পরিষ্কার। তারা জানিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনে বিরাট ধাক্কায় দল বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে। চলছে দল বদলের হিড়িক। এই অবস্থায় দলনেত্রীর ভাষণ যতটা ঝাঁঝালো দরকার তা তো হল না।

মঞ্চ থেকে মমতা হুঙ্কার ছাড়ছেন-আর বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা দেখাচ্ছে সমাবেশ থেকে ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। এক পর্যায়ে নেত্রীর ভাষণে এই বিষয়টিও স্থান পেল। ততোধিক হতাশা ছড়িয়ে পড়ল স্থানীয় নেতাদের মধ্যে।

প্রবল গরমে অগ্নিকন্যা তখন কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বাম ও কংগ্রেসকে তুলোধোনা করছেন। আর সমাবেশে যেতে না পারা নেতা কর্মীরা সেই ভাষণের খুঁত ধরতে পেরে চমকে যচ্ছেন।

মনের ভাব পরিষ্কার- কী হয় , কী হয়…