মিরান্ডাঃ  ব্রাজিলের একটি বাঁধ ধসে প্রায় দুশো মানুষ নিখোঁজ। শুক্রবার ভোররাতে মিনাস জেরাইস প্রদেশের ব্রুমাদিনহো শহরের ওই বাঁধটি ধসে পড়ে। বাঁধ ধসের পর ছড়িয়ে পড়া কাঁদার নদীতে আশেপাশের বহু এলাকার মানুষ আটকে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে স্থানীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর। যাচ্ছেন দেশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। অন্যদিকে ঘটনায় কয়েক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কতজন নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি সেখানকার প্রশাসন।

শুক্রবার ধসে বাঁধটির মালিক ব্রাজিলের অন্যতম খনি কোম্পানি ভ্যালে। মিনাস জেরাইস প্রদেশের আরেকটি বাঁধ ধসে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই বাঁধের মালিকানাতেও ভ্যালের অংশীদারিত্ব ছিল। বহুজাতিক খনি কোম্পানি বিএইচপি বিলটনের সঙ্গে ভ্যালের যৌথ মালিকানাধীন ওই বাঁধ ধসে স্থানীয় শত শত বাড়িঘর ধ্বংস হয়। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের সেই ঘটনার তুলনায় শুক্রবারের বাঁধ ধসের ঘটনা আরও বিশাল।

আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিস্তৃত এলাকার গাছপালা ও কৃষিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কিছু বাড়িঘরের ছবিও দেখা গিয়েছে। আবার কোনও কোনও বাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও ছাদের ওপর কাদার আস্তরণ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ব্রাজিলের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ইলবামা জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে বাঁধ ধসের কারণে লাখ লাখ টন জল ও কাঁদা ছড়িয়ে পড়েছে।

ফায়ার ব্রিগেডের সদর দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩৯ হাজার মানুষের শহর ব্রুমাদিনহোর আশেপাশের এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ফায়ার ব্রিগেডের স্থানীয় এক আধিকারিক এএফপিকে বলেছেন, আমরা যে খবর পাচ্ছি তাতে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে’। তবে সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি তিনি।

ব্রাজিলের খনি কোম্পানি ভ্যালের তরফ থেকে বাঁধ ধসের কারণ না জানালেও কোম্পানির তরফে বলা হয়েছে, কর্মী ও বাসিন্দাদের জীবনের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। শনিবার ওই এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী রিকার্ডো স্যালেস এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের পথে রয়েছেন।