রিও ডি জেনেইরো: অবশেষে ১২ বছরের দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটল ব্রাজিলের৷ ২০০৭ সালের পর বিশ্বফুটবলের অম্যতম পাওয়ার হাউস সেলেকাওরা জিতল কোপা আমেরিকার ট্রফি৷ ঘরের মাঠে ফাইনালে তারা ৩-১ গোলে পরাজিত করল পেরুকে৷

মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের হয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল করেন এভার্টন সোয়ারেজ ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস৷ দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করেন রিচার্লিসন৷ প্রথমার্ধেই পেরুর হয়ে এক মাত্র গোলটি করেন পাওলো গুয়েরেরো৷ দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জেসুস৷ ফলে ম্যাচের শেষ কুড়ি মিনিট দশ জনে খেলতে হয় সেলেকাওদের৷

এই নিয়ে মোট ৯ বার কোপা চ্যাম্পিয়ন হল ব্রাজিল৷ যদিও ১০১৯, ১৯২২ ও ১৯৪৯ সালে তিন বার তারা খেতাব জিতেছিল সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে৷ ১৯৭৫ সালে কোপা আমেরিকা শুরু হওয়ার পর ব্রাজিল খেতাব জেতে ১৯৮৯, ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৭ ও এবার ২০১৯ সালে৷ অন্যদিকে পেরু এর আগে ১৯৩৯ ও ১৯৭৫ সালে দু’বার টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে দু’বারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল৷ ৪৪ বছর পর তৃতীয় বার ফাইনালে উঠে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় পেরুকে৷

গ্রুপ লিগের ম্যাচে পেরুকে ৫-০ গোলে পরিজতি করে ব্রাজিল৷ ফাইনালে অবশ্য আয়োজকদের তুলনায় লড়াই ফিরিয়ে দেয় পেরু৷ মারাকানায় ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় জেসুসের পাস থেকে গোল করে ব্রাজিলকে ১-০ এগিয়ে দেন এভার্টন৷ ৩০ মিনিটে ম্যাচে প্রথমবার হলুদ কার্ড দেখেন জেসুস৷ ৪১ মিনিটে ভিডিও রেফারেলের সৌজন্যে পেনাল্টি আদায় করে নেয় পেরু৷ ৪৪ মিনিটে গুয়েরেরো স্পট কিক থেকে গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান৷

যদিও পেরুর উৎসব স্থায়ী হয়নি খুব বেশিক্ষণ৷ প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+৩) আর্থুরের পাস থেকে গোল করে ব্রাজিলকে ২-১ লিড এনে দেন জেসুস৷ প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় এই স্কোরলাইনেই৷ দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে ৭০ মিনিটের মাথায় ম্যাচে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখেন জেসুস৷ ফলে রেফারি লাল কার্ড দেখিয়ে ম্যান সিটি তারকাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন৷

শেষ ২০ মিনিট দশ জনে খেলতে হওয়ায় নিজেদের রক্ষণ মজবুত করে ব্রাজিল৷ এই সময় পেরুর একাধিক শাণিত আক্রমণ প্রতিহত করে ব্রাজিল ডিফেন্ডাররা৷ ৯০ মিনিটের মাথায় তিতের দল পেনাল্টি আদায় করে নেয়৷ ৯০+১ মিনিটে স্পট কিক থকে গোল করে ব্রাজিলের ব্যবধান বাড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন রিচার্লিসন৷