সাও পাওলো: বলিভিয়ার বিরুদ্ধে আটকে যাওয়ার পর সালভাডরে যে সমালোচনার ঝড় আছড়ে পড়েছিল, সেই সমালোচনাই রবিবাসরীয় করিন্থিয়াস এরিনায় আশীর্বাদ রুপে বর্ষিত হল সেলেকাওদের উপর। গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে পেরুকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চলতি কোপা আমেরিকার সবচেয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রুপ শীর্ষে থেকেই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল আয়োজক ব্রাজিল।

প্রথম ম্যাচে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে জয় এলেও দলের খেলায় মন ভরেনি সমর্থকদের। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে আটকে যাওয়ার পর গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ ধেয়ে এসেছিল তিতের দলের জন্য। শেষ ম্যাচে পেরুর বিরুদ্ধে কোনওরকম অঘটন ঘটলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের আশঙ্কাও তাড়া করে ফিরছিল দলের ফুটবলারদের। এমন অবস্থায় এদিন সাও পাওলোর করিন্থিয়াস এরিনা শুধুই ব্রাজিলময়। সারা ম্যাচ আধিপত্য নিয়ে ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে ৫ গোলে বিঁধল তিতের দল, একইসঙ্গে কোয়ার্টারের আগে দলের খেলায় পুরনো ঝাঁঝ ফিরে পেয়ে আশ্বস্ত হলেন সমর্থকেরাও।

আরও পড়ুন: বাংলার প্রথম বোলার হিসেবে বিশ্বকাপের এলিট ক্লাবে শামি

ব্রাজিলের হয়ে গোলের খাতায় এদিন নাম লেখালেন ক্যাশেমিরো, ফিরমিনো, এভার্টন, আলভেস এবং উইলিয়ান। ম্যাচের ১২ মিনিটেই এদিন পেরুর রক্ষণের লকগেট ভাঙে আয়োজকরা। কুটিনহোর কর্ণার থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে যান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্যাশেমিরো। এরপর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ‘ক্ষমাহীন’ ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন রবার্তো ফিরমিনো। বক্সের মধ্যে গালেসের শট ফিরমিনোর গায়ে প্রতিহত হয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল নিজের দখলে নিয়ে বিপক্ষ গোলরক্ষককে মাটি ধরিয়ে নিজের পরিচিত ‘নো লুক’ স্ট্রাইকে বল জালে রাখেন লিভারপুল তারকা।

আরও পড়ুন: চেলসিতে ফিরছেন পিটার চেক

বিরতির ঠিক আগে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে দলের তৃতীয় গোলটি এনে দেন এভার্টন সোয়ারেজ। ওখানেই কার্যত ম্যাচ জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ন’বারের কোপা জয়ীদের। তবু প্রথমার্ধের রেশ ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের অপেক্ষায় ছিলেন ব্রাজিল অনুরাগীরা। নিরাশ করেননি দলের ফুটবলাররা। দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রেখে পেরুর কফিনে জোড়া পেরেক পুঁতে দেয় ক্ষুধার্ত সেলেকাওরা। ব্রাজিলের চতুর্থ গোলটি দুরন্ত টিমগেমের ফসল। আর্থার ও ফিরমিনোর সঙ্গে দুরন্ত ওয়ান-টু খেলে স্কোরশিটে নাম তোলেন দানি আলভেস।

কোয়ার্টারে উন্নীত হওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে ডিফেন্সে বেশ কিছু রদবদল আনেন পেরু কোচ। তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ম্যাচের শেষ মিনিটে বিশ্বমানের শটে ৫ গোলের বৃত্ত সম্পূর্ণ করেন পরিবর্ত উইলিয়ান। শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়েও চেলসি মিডফিল্ডারের উৎকর্ষ সেই শটের নাগাল পাননি পেরু গোলরক্ষক। অতিরিক্ত সময় স্পটকিক থেকে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের শট গালেসে আটকে না দিলে হাফডজন গোলের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ত তিতের দল।