শ্রীনগর: মহারাষ্ট্রের থানের রানে পরিবারের অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল কোঙ্কনে চলে যাওয়ার৷ সেই ইচ্ছা অপূর্ণ রেখেই মাত্র ২৯ বছর বয়েসে চলে গেলেন মেজর কৌস্তুভ রানে৷

বুধবার রাতে গুরেজ সেক্টরে ভারতের পন্থ, গোবিন্দ, লোসার ১ ও বাখতোর পোস্ট লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে পাক সেনা। জবাব দেয় ভারতীয় সেনাও। জঙ্গি অনুপ্রবেশ আটকাতে গুলি চালায় সেনার রাষ্ট্রীয় রাইফেলস। সংঘর্ষে মেজর কৌস্তুভ রানে, বিক্রমজিৎ সিং, হামির সিং ও মনদীপ সিং নামে চার জওয়ান শহিদ হন৷

আড়াই বছরের একটা ছোট্ট সন্তান ছিল মেজর রানের৷ বাড়িতে ছিলেন বাবা, মা, স্ত্রী কণিকা৷ মেজর রানে ছিলেন থানের মীরা রোডের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ভারতীয় সেনায় যোগ দেবেন৷ সেই স্বপ্ন পূর্ণ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি৷ বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৬ নম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেলসে ছিলেন তিনি। এবছরই ৬ বছর পূর্ণ করেছিলেন তিনি সেনাকর্মী হিসেবে৷ জানুয়ারিতে মেলে পদোন্নতিও৷ মেজর পদ পান তিনি৷

স্থানীয় হোলিক্রশ স্কুলে পড়াশুনা মেজর রানের৷ এলাকায় হাসিখুশি, মিশুকে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি৷ তাঁর পরিবারের প্রত্যেকেই এলাকায় জনপ্রিয়৷ সেই মেজর রানের চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না মীরা রোডের বাসিন্দারা৷ শোকে আচ্ছন্ন রানে পরিবারও৷ তাঁর বাবা মা কথা বলার ভাষা হারিয়েছেন৷ মেজর রানের কাকা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যখনই সময় পেতেন, কৌস্তুভ বাড়িতে ফোন করতেন৷ পরিবারের সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতেন তিনি৷ কিন্তু একটা প্রাণঘাতী গুলি সব শেষ করে দিল৷

গতকালের সেনা জঙ্গি সংঘর্ষের পর এখনও চিরুণি তল্লাশি চালাচ্ছে সেনা৷ সূত্রের খবর, ৪ জন জঙ্গি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এখনও আহত অবস্থায় দুই জঙ্গি ওই এলাকাতেই লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

শ্রীনগর থেকে ১২৫ কিমি দূরে উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার গুরেজ সেক্টর থেকে সংর্ঘষের খবর আসে৷ পরিস্থিতি এখনও থমথমে এলাকায়৷ গুলির শব্দ থামলেও তল্লাশি চলছে৷ তবে সেই গুলি চলার তীব্র রেশ এসে পড়েছে শ্রীনগর থেকে অনেক দূরে মহারাষ্ট্রেও৷ সেখানেও এখন মৃত্যুর নীরবতা৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.