কলকাতা: আমফানের জেরে ক্ষয়ক্ষতি অঞ্চল পরিদর্শন করতে বাংলায় এসেছে একটি কেন্দ্রীয় দল৷ সেই দলকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু৷

শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী তথা দমদম বিধানসভার বিধায়ক ব্রাত্য বসু দলীয় এক কর্মসূচিতে অংশ নেন৷ সেখানে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় দল এসেছে তাঁরা নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছেন। রাজভবন থেকে শুরু হয়েছে এটা।”

তিনি এদিন আরও বলেন,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার এই মুহূর্তে খাদ্য, বাসস্থান ও পরিকাঠামো-কে স্বাভাবিক করার প্রতি নিবেদিত৷ এই সময়কালে বিজেপি যথাসম্ভব প্রচেষ্টা করছে বাংলার মানুষকে বদনাম ও অপদস্থ করার। কিন্তু বর্তমান প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার পর বাংলার মানুষ বিজেপির কাছে প্রত্যেকটি খবর এবং রাজনৈতিক লাভের জন্য সাজানো সকল মিথ্যা ঘটনার জবাবদিহি চাইবে।

প্রসঙ্গত, আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে রাজ্যে এসেছেন সাত সদস্যের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে নামেন তাঁরা। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন ওই দলের প্রতিনিধিরা। বাংলার আমফান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ১ হাজার কোটি টাকা আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

পশ্চিমবঙ্গে এসে মোদী বলেছিলেন, তিনি ফিরে যাওয়ার পর কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গে আসবে। তাঁরা রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখবে। তাঁদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই বাংলাকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। মোদীর প্রতিশ্রুতি মতোই বৃহস্পতিবার রাজ্যে এলেন কেন্দ্রের প্রতিনিধিদল।

জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্রীয় দলে জলশক্তি, বিদ্যুৎ, সড়ক, মৎস্য মন্ত্রকের আধিকারিকরা। দু’দিনের সফরে এসেছেন তাঁরা। শুক্রবারই দু’টি দলে ভাগ হয়ে উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শনো যান৷

একটি দল হেলিকপ্টারে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ, ধামাখালি, সন্দেশখালির দিকে। আরেকটি দল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা, ব্রজবল্লভপুর, রামগঙ্গা, ভাড়াতলার দিকে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খতিয়ে দেখার পর নবান্নে ফিরবেন তাঁরা। নবান্নে ফিরে তাঁরা মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা-সহ শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কীভাবে দুর্গতদের ক্ষতি পূরণ করা যায়, কোনও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বৈঠকে।

এরপরই দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রের কাছে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন তাঁরা। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই আবারও আর্থিক সাহায্য করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ২০ মে আমফানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কলকাতা, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয় সেনা। আমফান বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আকাশপথে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। সফরসঙ্গী ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কেন্দ্রীয় দলের পরিদর্শন প্রসঙ্গে এদিন টুইট করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি লেখেন, “কেন্দ্রীয় দল পরিদর্শনের সম্পূর্ণ সদব্যবহার করা প্রয়োজন।”

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প