নয়াদিল্লি: ভারত ও রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে ব্রহ্মোস সুপারসনিক মিসাইল তৈরি করতে শুরু করেছিল। ব্যবসা শুরু হয়েছিল ১৩০০ ওটি দিয়ে। সেই ব্যবসাই বাড়তে বাড়তে পৌঁছেছে ৪০,০০০ কোটিতে। এমনটাই জানালেন ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুধীর মিশ্র।

১৯৯৮ তে ভারত ও রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে এই মিসাইল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রজেক্টে একযোগে কাজ করে ভারতের ডিআরডিও ও রাশিয়ার NPO মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়া। জল, স্থল ও আকাশ- যে কোনও জায়গা থেকেই নিক্ষেপ করা যায় এই ক্রুজ মিসাইল।

সুধীর মিশ্র বলেন, ‘১৩০০ কোট টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসা শুরু হয়েছিল। সেখান থেকেই আজ ৪০,০০০ কোটির ব্যবসা।’ একটি ম্যানুফ্যাকচারিং কনক্লেভে এসে একথা বলেন তিনি। অন্য কোনও দেশ ওই সুপারসনিক মিসাইল কিনতে চাইছে কিনা, এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে ইতিবাচক উত্তর দেন তিনি। তবে, কোন দেশ এই অস্ত্র কিনতে আগ্রহী, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি।

বর্তমানে অন্তত ২০০টি ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সুধীর মিশ্র। পাশাপাশি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্তত ২০,০০০ মানুষ এই ব্যবসার যুক্ত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রিপোর্ট বলছে, আগামী কয়েক বছরে ভারতের অস্ত্র-ভাণ্ডারে আসছে আরও বেশি সংখ্যায় ব্রহ্মোস সুপারসনিক মিসাইল। সম্প্রতি চিন সীমান্তে সবথেকে বেশি গতিসম্পন্ন এই মিসাইল মোতায়েন করা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এর গতি হবে ৩০০০ কিলোমিটার/ ঘণ্টা। আর এতেই আতঙ্ক বেড়ে গিয়েছে চিনের। অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্তে এই মিসাইল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাখা হতে পারে কাশ্মীরেও।

পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুদেরও সহজেই টার্গেট করা যায় এই মিসাইলের মাধ্যমে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচটি রেজিমেন্টের প্রত্যেকটিকে ১০০টি করে মিসাইল আছে। ২০০৭ থেকে ব্রহ্মোস ব্যবহার করছে ভারত।

এর আগে সুধীর মিশ্রই জানিয়েছিলেন যে, আগামী এক দশকের মধ্যেই ব্রহ্মোসের গতি হবে ‘ম্যাক ৭’ (শব্দের চেয়ে সাতগুণ দ্রুত) অর্থাৎ ৫,৩৭০ মাইল প্রতি ঘণ্টা। মিসাইলকে হাইপারসনিক করতে আরও সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

বর্তমানে মিসাইলটি ম্যাক ২.৮ গতি তুলতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ম্যাক ৩.৫ গতি তুলতে সক্ষম হবে। সুধীর বলেন, ম্যাক ৫ গতি তুলতে হলে বর্তমান ইঞ্জিনে কারিগরি বদল আনতে করতে হবে। আর, ম্যাক ৭ পর্যায়ে যেতে হলে, উন্নতমানের ইঞ্জিন বসাতে হবে।