গুয়াহাটি: টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে বীভৎস বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অসমে। অনেক নদীতে জল বেড়ে বিপদসীমা ছুঁয়েছে। ভাসছে অসম।

প্রত্যেক মুহূর্তে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে কারণ অনেক জায়গায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল।

অসম এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যে টানা বৃষ্টিতে মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন নদীতে জলসীমা বেড়ে চলেছে। গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিঘন্টায় ৫-৬ সেন্টিমিটার জল বাড়ছে।

সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের অফিসার সাদিকুল হক জানিয়েছেন, “ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিমুহূর্তে জলসীমা বৃদ্ধি পাচ্ছে”।

তিনি আরও জানিয়েছেন, “প্রতিঘণ্টায় ৫-৬ সেমি জলসীমা বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রে। বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বর্তমানে বিপদসীমা গুয়াহাটি ১.৫ ফুট দূরে রয়েছে”।

এখনও অবধি অসমে ১১ জেলায় ৩ লাখের বেশি মানুষ ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কামরুপ জেলার রাঙ্গিয়ায় একজন জলে ভেসে গিয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যাদুর্গতদের সরকারি ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে করোনা ভাইরাসের আবহে অসমে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ত্রাণশিবিরে যারা রয়েছেন তাঁদের স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নজর দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল ডিসট্যানসিংয়েও।

বন্যার জলে তোড়ে বহু বাড়ি-ঘর নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বন্যার জল উঠেছে রেললাইনেও। রেললাইনে মাটি ধসে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু এলাকায় রেললাইনের নীচের মাটি সরে গিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চলাচল। দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা শুকনো খাবার, জল, ত্রিপল পৌঁছে দিচ্ছেন বন্যা কবলিত এলাকায়।

২১টি রেভিনিউ সার্কেলের ৩২১ গ্রামে ধীমাজি, লাখিমপুর, নাগাও, হোজাই, দারাং, বারপেতা, নলবাড়ি, গোয়ালপাড়া, ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া জেলা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই এখনও অবধি জানা গিয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প