সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি প্রজাপতি , তিনি এই ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির তিন কর্তার একজন। কিন্তু তিনি তাঁর পূজা বিশেষভাবে কোথাও হতে দেখা যায় না। এক হয় হাওড়ার বাজার অঞ্চলে। আর তিনি পূজা পান সুদূর রাজস্থানে।

সম্প্রতি মহাধুমধামে ব্রহ্মার পুজো হয়েছে হাওড়ার সন্ধ্যাবাজার ও কালীবাবুর বাজারে। কালিবাবুর বাজারের পুজোটি ৫০ বছরের বেশি পুরনো। বনবিহারী রোডে রয়েছে ব্রহ্মার মন্দির। এটি মূলত বিখ্যাত সন্ধ্যাবাজার অঞ্চল হিসাবে। এখানে যে পুজোটি হয় তার মূল কারণ খড়ের গাদায় আগুন লেগে যাওয়া থেকে রক্ষার জন্য। জনশ্রুতি একবার এই অঞ্চলে তখন জনবসতি খুবই কম। তখনও হাওড়া শহর হয়ে ওঠেনি সেই সময়ে ওই বাজার অঞ্চলে খড়ের গাদায় আগুন লেগে যায়। আগুনে সমস্ত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। সেই আগুন যাতে আবার না লাগে তার জন্য ব্রহ্মার পুজো শুরু হয়। সেই পুজো এখনও চলে আসছে। ব্রহ্মার সঙ্গে এখানে থাকেন বিষ্ণু , মহেশ্বরও। কালীবাবুর বাজারের ব্রহ্মার মূর্তি অন্যরকম। দাড়ি নেই , পুরোপুরি যেন কম বয়সের সৃষ্টিকর্তা। সন্ধ্যাবাজারের ব্রহ্মা পূজিত হন পরিচিত রূপেই। সঙ্গে থাকেন মহেশ্বর ও বিষ্ণুও।

পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী সৃষ্টির প্রারম্ভে ব্রহ্মা প্রজাপতিদের সৃষ্টি করেন। এই প্রজাপতিরাই মানবজাতির আদি পিতা। মনুস্মৃতি গ্রন্থে এই প্রজাপতিদের নাম পাওয়া যায়। এঁরা হলেন মারীচি, অত্রি, অঙ্গিরস, পুলস্ত, পুলহ, ক্রতুজ, বশিষ্ঠ, প্রচেতস বা দক্ষ, ভৃগু ও নারদ। সপ্তর্ষি নামে পরিচিত সাত মহান ঋষির স্রষ্টা ব্রহ্মা । তবে এঁরা মনুষ্যাকারবিশিষ্ট ঋষি নন । এঁরা তাকে বিশ্বসৃষ্টির কাজে সহায়তা করেন। তার এই পুত্রগণ তার শরীর থেকে জাত হননি, হয়েছেন তার মন থেকে। এই কারণে তাদের মানসপুত্র বলা হয়।

কিন্তু রাজস্থান ছাড়া আর কোথাও ব্রহ্মার পুজো হয় না কেন? মূলত পুষ্করেই কেন হয় ব্রহ্মার পুজো? পুরান অনুযায়ী, দেবী ব্রহ্মাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন পুষ্কর ছাড়া মর্তের অন্যত্র তার পুজো হবে না এবং গায়াত্রীকে তিনি চিরকাল এক অংশ গাভী ও অপর অংশে নদী হওয়ার অভিশাপ দেন।

কিন্তু এই কাহিনীর পিছনে এক অন্য ঘটনা আছে। ব্রহ্মা কেন পূজিত হন না, তার কিছু শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। পুরাণে কথিত হয়েছে, ব্রহ্মা যখন সৃষ্টি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তখনই নিজের কাজের সুবিধার জন্য এক সুন্দরী নারীকে তৈরি করেন তিনি। শতরূপা, গায়ত্রী, সরস্বতী, সাবিত্রী বা ব্রহ্মাণী নামে পরিচিতা সেই নারীর প্রতি কামাসক্ত হয়ে পড়েন ব্রহ্মা। শতরূপা ব্রহ্মার চোখের আড়াল হওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁর উপর নজর রাখতে নিজের ঘাড়ের উপর পাঁচদিকে পাঁচটি মাথা তৈরি হয়ে যায় ব্রহ্মার। শতরূপা তখন ব্রহ্মার কামাবেগ থেকে নিজেকে বাঁচাতে নানা পশুর ছদ্মবেশ ধরে পালাতে থাকেন। ব্রহ্মাও একে একে সেইসব পশুর পুরুষ রূপ ধারণ করে শতরূপার পিছু নেন। বলা হয়, এইভাবেই তৈরি হয় জীবকূল। শতরূপা বাঁচতে একটি গুহার ভিতর আশ্রয় নেন। ব্রহ্মা সেই গুহাতেই মিলিত হন শতরূপার সঙ্গে। শতরূপা ছিলেন ব্রহ্মার কন্যা। কিন্তু তাঁর সঙ্গেই মিলিত হন ব্রহ্মা। এই অবৈধ যৌনাচারের অপরাধে শিব ব্রহ্মার পঞ্চম মাথাটি কেটে দেন, এব‌ং অভিশাপ দেন যে, ধরাধামে কেউ ব্রহ্মার পূজা করবে না।

আর একটি কাহিনিতে বলা হচ্ছে, বিষ্ণু ও ব্রহ্মার মধ্যে একবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়, কে বেশি শক্তিশালী তা জানতে। অসৎ পথে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সেই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করার চেষ্টা করেছিলেন ব্রহ্মা। শিব এতে ক্ষুব্ধ হন ও ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন যে, তিনি কোনওদিন পৃথিবীতে পূজিত হবেন না। প্রসঙ্গত রাজস্থানের পুষ্করে ভারতের প্রাচীনতম ব্রহ্মা মন্দিরটি রয়েছে। মনে করা হয় প্রায় দু’হাজার বছর আগে এই মন্দির তৈরি। ভারতে এমন বৃহদাকার ব্রহ্মা মন্দির খুব কমই আছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।