সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এই জন্যই হয়তো বলে সব ভালো তার শেষ ভালো যার। শুরুটা সত্যিই একদমই ভালো হয়নি ব্র্যাডম্যানের। নিজের ব্যাটে তো রান পানিইনি বাউরালের বিস্ময়বালক। পাশাপাশি দল হেরেছিল রেকর্ড রানে। তাও চিরশত্রু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। হারের ঠেলায় প্রথম টেস্ট খেলেই দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ডন।

অবশ্য সেই প্রথম সেই শেষ। তৃতীয় টেস্টে স্মরণীয় কামব্যাক এবং বাকিটা ইতিহাস। স্থানীয় ক্রিকেটে রানের ফোয়ারা। সত্যিই এতো রান করছে যে ছেলে তাকে কি করে সুযোগ না দেওয়া যায়। সুযোগ দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। প্রথমেই ডাহা ফেল। প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলতে নেমে ব্র্যাডম্যান রীতিমতো হতাশ করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে করলেন ১৮ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ঘরের সংখ্যাও পেরোয়নি। আউট হয়েছিলেন মাত্র এক রান করেই। ব্যাটিংও পেয়েছিলেন অনেক দেরীতে। দুই ইনিংসেই সাতে ব্যাট করতে নেমেছিলেন ব্র্যাডম্যান। শুধু তিনি নন, পুরো অস্ট্রেলিয়া দলই সেই ব্রিসবেন টেস্টে জঘন্য খেলেছিল। অস্ট্রেলিয়া দুই ইনিংস মিলিয়ে রান করেছিল ১৮৮। ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচটিও হেরেছিল ৬৭৫ রানে, যেটি এখনো রানের ব্যবধানে টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। এমন ভয়ঙ্কর হারের ধাক্কায় পরের টেস্টেই বাদ পড়েছিলেন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান।

দলে ফিরেছিলেন সিরিজের তৃতীয় টেস্টে। ফিরেই শুরু হয় ম্যাজিক। মেলবোর্নে ব্যাটিং লাইনআপে অল্প উঠিয়ে আনা হয়েছিল। সাত থেকে ছয়ে প্রমোশন হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে করেন ৭৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১১২। আর কখনও দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি ব্র্যাডম্যানকে। সিরিজের শেষ টেস্টে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। অভিষেক টেস্টে যাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৯.৫, সেই ব্র্যাডম্যান শেষ পর্যন্ত ৫২ টেস্টে ২৯টি সেঞ্চুরি হাঁকানো ক্যারিয়ারের শেষ করেছিলেন ৯৯.৯৪-এর অবিশ্বাস্য গড় দিয়ে। আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি স্যার ডনের মৃত্যুদিন।

১৯২৮ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। প্রসঙ্গত ক্রিকেটারদের সেরা সময় বলা হয় ২৯ থেকে ৩২। এই সময়টাই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারেননি। সৌজন্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ফিরে এসে দেখিয়েছেন একেরে পর এক চমক। কোনও সিরিজে ৫০ গড় হলে বলা হতো ব্র্যাডম্যানের অফ ফর্ম চলছে। ২৩৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৯৫.১৪ গড়ে করেছেন ২৮০৬৭ রান এবং ৫২ টেস্ট ম্যাচের ক্যারিয়ারে করেছেন ৬৯৯৬ রান। গড় ৯৯.৯৪। ডন ব্র্যাডম্যানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান। যার গড় ৯৯.৯৪, তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলতেই হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।