লাদাখ: গত কয়েকদিন ধরে ভারতের উত্তর সীমান্তে চলছে চিনের সঙ্গে সংঘাত। আর সেই জন্যই চিনকে কড়া জবাব দিতে চিনা দ্রব্য বয়কট করার কথা বলেছেন সোনম ওয়াংচুক। লাদাখের যে শিক্ষা সংস্কারকের চরিত্রের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয় থ্রি ইডিয়টসের র‍্যাঞ্চো। আর তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকেই চিনা অ্যাপ বা চিনা মোবাইল বর্জন করছেন।

বিশেষ ভিডিও-তে সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আর সেই ভিডিওতে ইতিমধ্যেই ভিউ ছাড়িয়েছে ২০ লক্ষের বেশি। সেই প্রসঙ্গে সোনম ওয়াংচুক বলেন, ২০ লক্ষ মানুষ যদি সত্যিই সাড়া দেন, তাহলে চিন বুঝে যাবে ভারতকে উত্যক্ত করার মূল্য কীভাবে চোকাতে হচ্ছে।

ওয়াংচুক বলেন, এভাবে যদি ভারতীয়রা চিনা অ্যাপ আনইনস্টল করতে শুরু করে, তাহলে চিনের সরকারের কাছে একটা মেসেজ যাবে যে ভারতে তারা অনধিকার প্রবেশ করছে। তিনি আরও বলেন, বয়কটই হল সবথকে শক্তিশালী অস্ত্র। এই অস্ত্রেই চিনকে যোগ্য জবাব দিতে হবে।

ওয়াংচুকের কথায়, চিনা জিনিসপত্রের অর্ডার যখন একের পর এক বাতিল করা হবে, তখন চিনের সরকারের কাছে একটা কড়া জবাব পৌঁছবে। কারণ তিনি মনে করেন, ব্যবসা না থাকলে সেদেশের মানুষ শুধুই বাঁধা চাকরে পরিণত হবে। এভাবে চিনা দ্রব্য বয়কট করে ভারত গোটা পৃথিবীর কাছে একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বার্তা দিয়ে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে চিনা সফটওয়্যারের ব্যবহার বন্ধ করা উচিৎ। এক বছরের মধ্যে হার্ডওয়্যারও বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।

তিনি নিজেও ফোন থেকে সব চিনা অ্যাপ সরিয়ে দিচ্ছেন এমনকি চিনা ফোন ব্যবহার করাই ছেড়ে দেবেন দ্রুত। এক বছরের মধ্যে তিনি Made In China লেখা সব জিনিস বর্জন করবেন। যাতে ওইসব জিনিসের বিকল্প তৈরি হবে বা অন্যান্য দেশ থেকে আনা সম্ভব হবে, ততদিন পর্যন্ত সময় নেওয়ার কথা বলছেন তিনি।

তাঁর কথায়, ‘আমরা রাতে ঘুমোই এটা ভেবে যে, সেনাবাহিনী তো জবাব দেবে। কিন্তু এবার জবাব দু তর থেকে দিতে হবে। সাধারণ মানুষকেও পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তাঁর মতে, এভাবে চিনা দ্রব্য বর্জন করলে চিনের অর্থনীতি ধাক্কা খাবে, আর সেটাই বেজিংয়ের সবথেকে বড় ভয়।

হিসেব কষে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে চিন ভারতের বাজারে ব্যবসা করছে। তাই চিনকে কার্যত ভাতে মারার কথা বলছেন বাস্তবের র‍্যাঞ্চো।

তিনি দেখিয়েছেন, ভারত প্রত্যেক বছর ৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিময়ে চিনা দ্রব্য আমদানি করে। আর সেই টাকাতেই ওরা নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গা করছে। চিনের সবথেকে বড় ভয় ওদের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যেন ভেঙে না পড়ে। আর সেরকম হলে চিনাদের রাগ আরও বেড়ে যাবে সরকারের প্রতি। সে দেশের জনতা বিদ্রোহী হয়ে উঠবে। এটাই ওদের মূল ভয়। তাই সবার আগে ওদের অর্থনীতিতেই মোক্ষম ঘা দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য সোনমের।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প