স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ভোট ঘোষণার পর থেকে প্রশাসনের পাশাপাশি আবগারি দফতর অভিযান চালাচ্ছে৷ চোলাই মদের কারবার চালানোর ঘটনায় বিজয়রাম এলাকার একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। কিন্তু এতকিছুর পরেও বিজয়রাম এলাকা থেকে যে মদের কারবারকে বন্ধ করে দেওয়া যায়নি তা বুধবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বর্ধমান থানার বিজয়রাম ঘোষপাড়ার মানুষজন।

মদের টাকা না পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাকে খুন করল ছোটো ছেলে সুরজিত লেট ওরফে নতু লেট। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে বর্ধমান থানার বিজয়রাম ঘোষপাড়া এলাকায়। মৃতের নাম সাগরিকা লেট (৫০)। অভিযুক্ত গুণধর ছেলে সুরজিত লেট পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

মৃতের বড় ছেলে অভিজিত লেট পেশায় মুটে মজদুর৷ তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রায় একবছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর ভাই নতু লেট রং মিস্ত্রীর কাজ করে৷ রাতে চূড়ান্ত মদ খেয়ে এসে বাড়িতে ঝামেলা করতে শুরু করে। বাড়িতে এসেই তাঁর কাছ থেকেও মদ খাওয়ার টাকা চাইত। কিছুদিন আগে ভাইয়ের মদ খাওয়ার প্রতিবাদ করায় সুরজিত দাদা অভিজিতকে লোহার রড দিয়ে খুন করতে উদ্যত হয়। কোনো রকমে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

এরপরই রাতে বাড়িতে থাকতেন না অভিজিত। রাতে বাড়ির বাইরেই কাটাতেন। হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসে ভাই সুরজিত মায়ের কাছে মদ খাওয়ার টাকা চায়। মা তা দিতে না চাওয়ায় জোর করে মায়ের কানে থাকা দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাতে বাধা দিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের গলায় কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সুরজিত। প্রতিবেশীরাই রক্তাক্ত অবস্থায় সাগরিকা দেবীকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় সুরজিত লেটের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের জামাই দিলীপ দলুই। পুলিশ সুরজিত লেটের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।

একের পর এক বেআইনি মদের ভাটিকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। রীতিমত মাটির নিচে বাঙ্কার বানিয়ে চোলাই মদকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ভাটিও ভেঙে দেয় জেলা আবগারি দফতরের কর্মীরা। তা স্বত্বেও জেলায় রোধ করা যাচ্ছে না চোলাই মদের কারবার৷